আবুল কাশেম রুমন, সিলেট ব্যুরো: ৩০ মে ২০২৬ , ১১:৪৮:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হাজারো মানুষ ভিড় করছেন সাদাপাথরে। পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ নীল জলের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সময় কাটাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। পাথুরে নদীর স্বচ্ছ পানিতে জলকেলি, ছবি তোলা, সেলফি আর ঘোড়ায় চড়ে ঘোরার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন সময় পার করছেন তারা।
শুক্রবার (২৯ মে) সরেজমিনে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও দর্শনার্থীদের উৎসাহে কোনো ভাটা পড়েনি। কেউ নদীর স্বচ্ছ পানিতে নেমে গা ভিজিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কুমিল্লা থেকে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে আসা কলেজছাত্রী অদিতি বলেন, “সাদাপাথর সত্যিই অসাধারণ সুন্দর একটি জায়গা। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। তবে পর্যটকদের সুবিধার জন্য আরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।”
এদিকে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি পর্যটক আসায় খুশি পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। নৌকার মাঝি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফটোগ্রাফাররা জানান, দীর্ঘদিন পর পর্যটকের এমন উপস্থিতিতে তাদের ব্যবসায় প্রাণ ফিরে এসেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।”
শুধু সাদাপাথর নয়, ঈদের ছুটিতে সিলেট বিভাগের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সিলেটের চা বাগান, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড ও শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও পার্কে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাদাপাথরসহ সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে এগুলো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।




















