প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০২৬ , ১২:১৪:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
মিসরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করেছে ইরান। তবে অন্য গ্রুপের কয়েকটি ফল নিজেদের পক্ষে এলে এখনও শেষ বত্রিশে ওঠার সম্ভাবনা বেঁচে আছে তাদের।
‘জি’ গ্রুপে তিন ম্যাচে তিনটি ড্র করে তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে ইরান। একই সময়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে বেলজিয়াম। পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের পর্বে উঠেছে মিসর, যদিও গোল ব্যবধানে তারা বেলজিয়ামের পেছনে রয়েছে।
৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল শেষ বত্রিশে খেলার সুযোগ পায়। সেই হিসেবে তিন পয়েন্ট নিয়েও এখনো আশা ধরে রেখেছে ইরান।
ইরানের পরবর্তী পর্বে ওঠার সম্ভাবনা নির্ভর করছে অন্য কয়েকটি ম্যাচের ওপর। ঘানা যদি ক্রোয়েশিয়াকে হারায়, কঙ্গো যদি উজবেকিস্তানকে হারাতে ব্যর্থ হয়, অথবা অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ম্যাচে যেকোনো একটি দল জয় পায়, তাহলেই শেষ বত্রিশে ওঠার সুযোগ পাবে ইরান।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না ইরানের জন্য। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন মাহমুদ সাবের। এটি ছিল বিশ্বকাপে মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম গোল।
তবে ১৪তম মিনিটে মিলাদ মোহাম্মাদির শট প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে কঠিন কোণ থেকে গোল করে সমতা ফেরান রামিন রেজাইয়ান।
এই বিশ্বকাপে তিন ম্যাচের মধ্যে এটি ছিল রেজাইয়ানের দ্বিতীয় গোল। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি গোল করেছিলেন।
শুরুর দিকের দ্রুতগতির খেলার পর ম্যাচ কিছুটা ধীর হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে উরুর পেছনের পেশিতে অস্বস্তি অনুভব করায় ৫৭তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন মিশরের তারকা মোহাম্মদ সালাহ।
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে অতিরিক্ত সময়ে। শোজা খলিলজাদেহ বল জালে জড়িয়ে ইরানকে জয়ের স্বপ্ন দেখালেও পরে ভিডিও সহায়তায় দেখা যায় তিনি অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পরই কাছ থেকে নেওয়া সাঈদ এজাতোলাহির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে আরেকটি ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইরানকে।
বিশ্বকাপে এবার তিন ম্যাচে অপরাজিত থেকেও জয়ের দেখা পায়নি ইরান। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আসরের গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে শেষ করেছে দলটি।
ফলে এই ফলাফল একদিকে ইরানের বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সেরা গ্রুপ পর্বের সাফল্য, অন্যদিকে আরেকটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করার আক্ষেপও হয়ে থাকল।
ম্যাচটি রাজনৈতিক দিক থেকেও বেশ আলোচনায় ছিল। ইরানের জাতীয় দলকে ঘিরে দেশের ভেতরে ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী ইরানিদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ এটিকে কেবল ফুটবল দল হিসেবে দেখেন, আবার কেউ এটিকে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন।
এর আগেও টুর্নামেন্টজুড়ে এই বিতর্ক ছিল। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা জানিয়েছিল, রংধনু পতাকা স্টেডিয়ামে নেওয়ার অনুমতি থাকবে। তবে রাজনৈতিক প্রতীকের নিয়মের কারণে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব ‘সিংহ ও সূর্য’ পতাকা বিশ্বকাপ ভেন্যুতে নিষিদ্ধ রাখা হয়।




















