প্রচ্ছদ

লাল মরিচ সংগ্রহে ব্যস্ত সারিয়াকান্দির কৃষক, নেই লাভের সম্ভাবনা

  প্রতিনিধি ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ৬:২৪:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

রাশেদ মিয়া , স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন জমি থেকে লাল মরিচ উত্তোলন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার মরিচক্ষেতগুলো এখন লাল মরিচে ভরপুর হয়েছে। গাছে গাছে থোকায় থোকায় লাল মরিচ দুলছে। সারা মাঠজুরে এখন লাল মরিচ তোলার মনোরোম দৃশ্য। লাল মরিচ জমি থেকে কৃষকেরা উত্তোলন করে তা বাছাই করে উঠানে বা ঘরের চালায় শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকদের টিনের চালা এবং উঠান এখন লাল মরিচে হাসছে। কেউ আবার লাল মরিচ বাজারে বিক্রিও করেছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ উপজেলায় ৩৩১০ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৪৩৩টন শুকনা মরিচ উৎপন্ন হয়েছিল। এ বছর মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩২০০ হেক্টর। অর্জন হয়েছে ৩১১০ হেক্টর। এর মধ্যে ২১২৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ১ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে দেশী উফসী জাতের মরিচ উৎপন্ন হয়েছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মরিচ চাষে খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে মরিচের ভালো দাম না পাওয়ায় এ বছর মরিচে লাভ পাচ্ছেন না তারা।
সারাদশে বিখ্যাত বগুড়ার লাল মরিচ বপন বা রোপনের সময় এবছর লাগাতার বৃষ্টিপাতে বৈরী আবহাওয়া বিরাজমান ছিল। তাই ক্ষেতে বারবার মরিচের গাছ নষ্ট হয়েছে এবং সেখানে কৃষকরা বারবার মরিচের গাছ রোপণ করছেন। ফলে মরিচ গাছ বড় করতে কৃষকদের অতিরিক্ত সার এবং কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে। ফলে এ বছর কৃষকদের মরিচ চাষে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে এখন মরিচের ভালো ফলন হলেও বাজারে ভালো দাম না পাওয়ায় কৃষকেরা ভালো লাভ পাচ্ছেন না। প্রতিমণ মরিচ উত্তোলন করতে তাদের খরচ হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি। অপরদিকে উত্তোলিত মরিচ ঘোড়ার গাড়িতে বহন করে বাজারজাত করতে আরও ১০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এদিকে বাজারে প্রতিমণ মরিচ ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তাই উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে মরিচে এ বছর তেমন একটা লাভ পাচ্ছেন না কৃষকেরা।
সরাসরি কৃষকের কাছে থেকে লাল মরিচ ক্রয় করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহ করার জন্য নিজেদের চাতালে শুকাতে দিয়েছেন। তারা জানান, প্রতিমণ লাল মরিচ বাজার থেকে ১৭০০ টাকা থেকে ১৯০০ টাকা মণ পর্যন্ত ক্রয় করেছেন। সাধারণত সাড়ে ৪ মণ লাল মরিচ রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে ১ মণ শুকনা মরিচ পাওয়া যায়। তাই প্রতিমণ শুকনা মরিচ পেতে তাদের ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। অপরদিকে বাজারে প্রতিমণ পুরাতন শুকনা মরিচ ৮ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাই নিরুপায় হয়ে মরিচ শুকিয়ে তারা এখনি বিক্রি না করে তা সংরক্ষণ করছেন।
উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের সুজাতপুর চরের কৃষক রিপণ মিয়া জানান, গত বছর মরিচ চাষ করে ভালো লাভ পেয়ে এ বছর তিনি ১৩ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকার বেশি। প্রথমের দিকে কাঁচা মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় কোনমতে তার আসল টাকা উঠে এসেছে। এখন বাজারে ভালো দাম না থাকায় মরিচ উত্তোলন করে বিক্রি করে তিনি লাভ পাচ্ছেন না।
সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের কৃষক মতিজার রহমান বলেন, ২০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করতে আমার ২১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ২০ শতাংশ জমি থেকে ৮ মণ লাল মরিচ এবং ১০ মণ কাঁচা মরিচ পেয়েছি। তাই এ বছর মরিচ চাষ করে কোনও লাভ পেলাম না।
পাইকারি ব্যবসায়ী পৌর এলাকার রনি মিয়া বলেন, প্রতিমণ ১৭ শ টাকা থেকে ১৯ শ টাকা পর্যন্ত ২৫০ মণ লাল মরিচ ক্রয় করে নিজের চাতালে রোদে শুকাতে দিয়েছি। এখন বাজারে বিক্রি করলে লোকসান হবে। তাই শুকিয়ে কিছুদিন সংরক্ষণ করে দাম বৃদ্ধি পেলে বিক্রি করবো।
সরকার মরিচের বাজার দর মনিটরিং করে মরিচের ন্যায্যমূল্য ঠিক করলে শুকনা মরিচে লাভ হবে বলে ধারনা করছেন কৃষকরা।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ বলেন, যমুনা এবং বাঙালি নদী বিধৌত সারিয়াকান্দির মাটি বেলে দোআঁশ। তাই এ মাটিতে প্রাচীনকাল থেকেই মরিচ উৎপাদন ভালো হয়। সারাদেশের মধ্যে বগুড়ার সারিয়াকান্দির মরিচের ভালো সুনাম রয়েছে। কৃষকেরা এখন জমি থেকে লাল মরিচ উত্তোলন করা শুরু করেছেন। কৃষকরা যাতে ভালো দাম পান সে বিষয়ে ভোক্তা অধিদপ্তর কাজ করার কথা।

আরও খবর

Sponsered content