প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ , ৬:৪৪:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। দুই বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এবং গুম করে হত্যার অভিযোগে মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি কথিত গুম-খুন মামলার আড়ালের বাস্তবতা এবং একজন নির্দোষ ব্যক্তির চার মাস কারাভোগের বেদনাদায়ক ঘটনা।
জানা যায়, শেরপুর জেলার মোস্তফা কামাল (২৮) দীর্ঘদিন ধরে কুলিয়ারচরে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ গুম করে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় মোস্তফার মা মনোয়ারা বেগম আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে। অভিযোগ ওঠে, মোস্তফার সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেনজনিত বিরোধ ছিল। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন।
তবে তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হলে তারা নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৯ জুলাই দিবাগত রাত ২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকালে মোস্তফা কামাল সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। তিনি বিয়ে করে নতুন সংসারও গড়ে তুলেছেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তার আত্মগোপনের বিষয়টি পরিবারের কয়েকজন সদস্য অবগত ছিলেন। তবে তারা এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো তথ্য দেননি।
ভুক্তভোগী জামান মিয়া বলেন, ‘আমি বিনা দোষে চার মাস জেল খেটেছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















