খেলাধুলা

সেইফার্ট ঝড়ে হান্ড্রেডের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস

  প্রতিনিধি ১৭ আগস্ট ২০২৬ , ৯:৪০:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

টিম সিফার্টের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দ্য হান্ড্রেডের শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। লর্ডসে ৩৮ বলে ৭২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে সাতটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের এই ব্যাটার। ১৫৯ রানের লক্ষ্য তারা পেরিয়ে যায় ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই বল আগে।

দুই সপ্তাহ আগে টানা তৃতীয় ম্যাচে হেরে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। সেখান থেকে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে তারা শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিশ্চিত করেছে। দলের এই দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে অধিনায়কত্বে জস বাটলারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগত কারণে এইডেন মার্করাম দেশে ফিরে যাওয়ার পর নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন বাটলার। পুরো আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সেইফার্টও চারটি অর্ধশতক হাঁকিয়ে দলের সাফল্যে বড় অবদান রাখেন।

মার্করামের অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে এসেক্সের পল ওয়াল্টারকে খেলানোর সিদ্ধান্ত বদলে দেয় সুপার জায়ান্টসের ভাগ্য। ফাইনালে ১৪ বলে ২২ রান করেন ওয়াল্টার। পাঁচ ইনিংসে তার মোট রান দাঁড়ায় ২৪৭, আর রান করার হার ছিল ১৭৯। সেইফার্টের সঙ্গে তার বাঁহাতি-ডানহাতি এবং লম্বা-খাটো জুটিটি পুরো আসরেই দারুণ কার্যকর ছিল।

বাটলার বলেন, ‘ওরা আমাদের শিরোপা জিততে অনেকটাই সাহায্য করেছে।’

ফাইনালে সেইফার্ট ও ওয়াল্টার মাত্র ৩১ বলে যোগ করেন ৬৬ রান। রান তাড়ার প্রথম বলেই কভারের ওপর দিয়ে চার মারেন সিফার্ট। চতুর্থ বলে তিনি লেগ সাইড দিয়ে হাঁকান ছক্কা। এই জুটিই মূলত রান তাড়ার ভিত গড়ে দেয়।

সেইফার্ট ৭২ রানে ফিরে যাওয়ার পরও সুপার জায়ান্টসকে কিছুটা চাপে পড়তে হয়। তখন ২২ বলে প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। তবে শেষ পর্যন্ত লিয়াম ডসন গভীর মিডউইকেট দিয়ে বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দলকে জয় এনে দেন।

এই জয়ের মাধ্যমে ম্যানচেস্টারের পুরুষ ও নারী—দুই দলের ইতিহাসেই প্রথমবার হান্ড্রেডের শিরোপা এসেছে। একই সঙ্গে সুপার জায়ান্টস ফ্র্যাঞ্চাইজির দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা কাটল। সাতটি আইপিএল মৌসুম ও চারটি এসএ২০ মৌসুম ধরে তারা কোনো শিরোপা জিততে পারেনি।

মাত্র এক মাস আগেও লর্ডসে খেলেননি সেইফার্ট। কিন্তু আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে লন্ডন স্পিরিটের বিপক্ষে সুপার জায়ান্টসের হয়ে অভিষেকেই ৪৫ বলে ৬৭ রান করেছিলেন। ফাইনালেও তিনি হয়ে উঠলেন দলের জয়ের নায়ক। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন এই ব্যাটার। প্রথম ওভারে ১৪ রান নেওয়ার পর মোহাম্মদ আমিরের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটিও হয়।

৩৩ রানে সেইফার্ট অল্পের জন্য বেঁচে যান। ক্রেইগ ওভারটনের বলে মিডউইকেটের দিকে উড়িয়ে মারার পর ফিন অ্যালেন অসাধারণ ফিল্ডিং করে বলটি ধরে সীমানার বাইরে যাওয়ার আগেই ক্যালভিন হ্যারিসনের দিকে ছুড়ে দেন। হ্যারিসন এক হাতে ক্যাচ নেন। তবে পর্যালোচনার পর সেটিকে ছক্কা দেওয়া হয়। টেলিভিশন আম্পায়ার মার্টিন স্যাগার্স জানান, অ্যালেনের পা বিজ্ঞাপনের সীমানা স্পর্শ করেছিল।

এরপরও থামেননি সেইফার্ট। বাটলারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছক্কা মারতে থাকেন। বাটলার ক্যালভিন হ্যারিসনের বলে লং-অফে ক্যাচ দেওয়ার পর লিউস ডু প্লয়ের সঙ্গে জুটি গড়েন সিফার্ট। তার আন্তর্জাতিক সতীর্থ মিচেল স্যান্টনারই একমাত্র বোলার ছিলেন, যিনি তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিলেন। অথচ স্যান্টনারকে মাত্র ১৫ বল করানো হয়।

শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আমিরের ওয়াইড ইয়র্কারে ব্যাট চালাতে গিয়ে আউট হন সেইফার্ট। তার ৭২ রান হান্ড্রেডের ফাইনালে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

শেষ নয় বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র তিন রান। তবু অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটি কঠিন করে তোলে সুপার জায়ান্টস। আমিরের বলে হাইনরিখ ক্লাসেন মিডউইকেটে ক্যাচ দেন। এরপর আমিরই মাইকেল ব্রেসওয়েলকে এলবিডব্লিউ করেন। বেন স্যান্ডারসনের বলে ডসন দুবার ব্যাট চালিয়ে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত আনেউরিন ডোনাল্ডের সামনে দিয়ে বল সীমানায় পাঠিয়ে দুই বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেন।

পাওয়ারপ্লেতে ৩৩ রান তুলে কোনো উইকেট না হারিয়ে ভালো শুরু করেছিল রকেটস। এরপর লিয়াম ডসনের বলে উল্টো দিকে ব্যাট চালাতে গিয়ে বেন ডাকেট সহজ ক্যাচের সুযোগ দেন। কিন্তু শর্ট থার্ডম্যানে থাকা জশ টং সেই ক্যাচ ফেলে দেন।

এরপর নূর আহমেদের বোলিং পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। মাত্র চার বলের ব্যবধানে রকেটসের দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন তিনি।

পুরো আসরে নূর খুব একটা আলো ছড়াতে পারেননি। গ্রুপ পর্বের আট ম্যাচ ও শুক্রবারের এলিমিনেটর মিলিয়ে তার শিকার ছিল মাত্র পাঁচ উইকেট। কিন্তু ফাইনালে নিজের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরেন আফগান এই স্পিনার। প্রথম বলেই ফিন অ্যালেন লং-অফে ক্যাচ দেন। চতুর্থ বলে ডাকেটের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল প্যাডে আঘাত করে বাটলারের হাতে যায়।

রকেটসের তিন নম্বরে নামা আনেউরিন ডোনাল্ড অবশ্য নূরকে আক্রমণ করেন। প্রথম বলেই ল্যাপ সুইপে চার মারেন। পরের দিকে টানা দুই ওভারে একটি ছক্কা ও একটি চারও হাঁকান। এরপর সনি বেকারের বলে আরও দুটি বড় শট খেলেন। তবে পরে স্যাম বিলিংসের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন বিলিংস। বল হাতে নিয়ে ডসন বোলারের প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন।

এরপর নূর তৃতীয় আঘাতটি হানেন টিম ডেভিডকে ফিরিয়ে। তার গোটা মৌসুমে মাত্র ৯০ রান করা বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ডে দলে নেওয়ার পর। নূরের গুগলি বুঝতে না পেরে বাটলারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

ডোনাল্ডও ডসনের বলে আক্রমণ করতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান। ১৯ বলে ৩৮ রান করে তার বিদায়ের পর রকেটস মাত্র ৩২ বলের মধ্যে ৪৭ রানে হারায় পাঁচ উইকেট।

গ্রেগরি গত মৌসুমে ম্যানচেস্টারের হয়ে খেলেছিলেন, যখন দলের নাম ছিল ম্যানচেস্টার অরিজিনালস। তবে শুরু থেকেই রকেটসের সঙ্গে থাকা এই ক্রিকেটার ২০২২ সালে দলটিকে শিরোপাও এনে দিয়েছিলেন।

ফাইনালে তিনি মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গে ২৫ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলকে আবার লড়াইয়ে ফেরান। নূরের বলে টানা দুটি চার মারার পাশাপাশি লেগ সাইড দিয়ে তিনটি ছক্কাও হাঁকান তিনি।

শেষ পর্যন্ত টংয়ের ধীরগতির বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে ১৬ বলে ৩২ রান করে ফেরেন গ্রেগরি। এরপর স্যান্টনার ও ক্রেইগ ওভারটন শেষ দিকে কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে রকেটসের সংগ্রহ দেড়শ ছাড়িয়ে নেন।

ইনিংসের শেষ দুই বলে দুটি উইকেট নেন সনি বেকার। তবু ১৫৮ রানকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ মনে হচ্ছিল। কিন্তু সিফার্টের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত সেই রানও যথেষ্ট হয়নি। দুই বল হাতে রেখে হান্ড্রেডের শিরোপা জিতে নেয় ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস।

আরও খবর

Sponsered content