এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:০২:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ইউএসইও) এএসএম জিল্লুর রশীদ অবসরের পূর্বমুহূর্তেও জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে শিক্ষাঙ্গনে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আগামী ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টানতে যাচ্ছেন এই গুণী শিক্ষা প্রশাসক।
এএসএম জিল্লুর রশীদ মশিয়ূর রহমান আইন মহাবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেরামত আলী বিশ্বাস ও মিসেস আমিনা সুলতানার জ্যেষ্ঠপুত্র। তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি ২০০৪-১২ ও ২০১৮-২৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মোট ১২ বছর ঝিকরগাছা উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ২৮ বছরের চাকরি জীবনে অর্জিত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হয়ে কেশবপুর উপজেলায় বদলি হন। পরবর্তীতে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে মনিরামপুর উপজেলায় যোগদান করেন এবং বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শার্শা উপজেলাতেও কর্মরত রয়েছেন।
ঝিকরগাছায় কর্মরত থাকাকালে তিনি ঝিকরগাছা বিএম হাই স্কুল, পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার সময়কালে ঝিকরগাছা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় দেয়ালিকা প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। পাশাপাশি শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করে।
সরকারি রুটিন দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে তিনি স্থানীয়ভাবে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তার কর্মকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান শিক্ষার চর্চায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে তিনি যশোর জেলা পর্যায়ে পঞ্চমবারের মতো (২০১৯, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬) এবং খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয়বারের মতো (২০২৪ ও ২০২৬) শ্রেষ্ঠ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিজ জন্মস্থানে তিনি নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে পিতা-মাতার নামে “আমিনা কেরামত আলী বিশ্বাস ড্রিম স্কুল” নামে একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। সেখানে আধুনিক ও গুণগত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
দীর্ঘ প্রায় ৩১ বছরের বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনের শেষে অবসর গ্রহণ করলেও এএসএম জিল্লুর রশীদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।




















