জাতীয়

অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ডিসি ফিটলিস্ট নিয়ে প্রশাসনে তোলপাড়

  নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক মতপ্রকাশ ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৪৩:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

ডিসি (জেলা প্রশাসক) হওয়ার যোগ্যদের তালিকা বা ‘ডিসি ফিটলিস্ট’ প্রণয়নকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রচলিত স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ভিন্ন পথে তালিকা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণত ব্যাচভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। বিসিএস পরীক্ষার মতো প্রস্তুতি নিয়ে কর্মকর্তারা ভাইভা বোর্ডে অংশ নেন। তবে এবার সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মোবাইল ফোনে কর্মকর্তাদের ডেকে এনে ভাইভা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত ৭ এপ্রিল বিসিএস ২৮তম ব্যাচের প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তার ভাইভা নেওয়া হয়। পরদিন ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরবর্তীতে একই ব্যাচের আরও কিছু কর্মকর্তাকে আবারও ডাকা হয়। এভাবে পছন্দের প্রার্থীদের বেছে বেছে ভাইভায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে প্রশাসনে অসন্তোষ বাড়ছে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিসি ফিটলিস্ট প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমন সময়ে বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, ভাইভায় অংশ নেওয়া অনেক কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কেউ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, কেউ রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য, আবার কেউ পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। সংশ্লিষ্ট কমিটি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে। তবে দ্রুত ডিসি নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজনে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বিসিএস ২৮তম ব্যাচের ৪৮ কর্মকর্তাকে টেলিফোনে ডাকা হয়েছিল, যার মধ্যে অধিকাংশই ভাইভায় অংশ নেন। একইভাবে ২৯তম ব্যাচের প্রায় ৩০ কর্মকর্তাকে ডাকা হয়, যাদের মধ্যেও বিতর্কিত পরিচয়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, অতীতে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় ডিসি ফিটলিস্ট প্রণয়নের নজির নেই। স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, প্রশাসনের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

অন্যদিকে ভিন্নমতও রয়েছে। কিছু কর্মকর্তার মতে, পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। যোগ্যতা থাকলে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ডিসি পদে সাধারণত উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত নিয়োগের জন্য আগেই একটি ‘ফিটলিস্ট’ তৈরি রাখা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে।

ডিসি পদে পদায়ন নীতিমালায় বলা হয়েছে, উপসচিব পদে পদোন্নতির অন্তত এক বছর পর এবং মাঠ প্রশাসনে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জনের ভিত্তিতে ফিটলিস্ট প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন, শৃঙ্খলা রেকর্ড, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content