মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ৫ নভেম্বর ২০২৫ , ৮:৫১:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলজিইডি সড়ক দীর্ঘ এক বছর ধরে পানির নিচে ডুবে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও সরকারি উদ্যোগের অভাবে আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র যোগাযোগ পথটি এখন জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।
কমলপুর হযরত শাহজালাল আলিয়া মাদ্রাসা থেকে গোপীনাথপুর পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি (এলজিইডি আইডি নং–৬৩৬৭৩৫০২৩) বিশেষ করে রজব আলী টেইলারের বাড়ির অংশে সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে আছে।
এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কমলপুর, নয়নপুর, দেবীপুর, কালিকাপুর, রামনগর, চৈতন্যপুর, গোপীনাথপুর ও হরিণখোলা—এই আটটি গ্রামের প্রায় পাঁচ থেকে দশ হাজার মানুষ চলাচল করে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন হযরত শাহজালাল আলিয়া মাদ্রাসা, আজিজুর রহমান স্কলার একাডেমি ও গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাস্তার পাশের পানি নিষ্কাশনের খাল দখল করে বন্ধ করে দিয়েছেন। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ করে খাল খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তারা তা মানেননি। ফলে বর্ষা মৌসুমে পুরো রাস্তা ও আশপাশের এলাকা তীব্র জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়, বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল।
ইউপি সদস্য আব্দুস শহীদ বলেন, “রাস্তাটি সংস্কার করা এখন একান্ত জরুরি। আমরা বারবার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা রজব আলী বলেন, “আমাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এটি। কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই—জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউন্নবী বলেন, “বিষয়টি আমরা জানি। স্থানীয় মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের আবেদনের ভিত্তিতে রাস্তা পাকা করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে সড়কটি পাকা করার জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সময়ের পরিক্রমায় সড়কটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে, দুর্ভোগে পড়েছেন আশপাশের হাজারো মানুষ।














