সারাদেশ

দিনাজপুরের হাকিমপুর–হিলি হানাদারমুক্ত দিবস আজ: মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি

  মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৯:৫২:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

 

দিনাজপুরের হাকিমপুর–হিলি হানাদারমুক্ত দিবস আজ ১১ ডিসেম্বর। একাত্তরের এই দিনে ৭ নম্বর সেক্টরের আওতায় মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে হিলি মুক্ত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ ও গেরিলা যুদ্ধে হাকিমপুরের বোয়ালদাড় গ্রামের গোলাম মোস্তফা, একরাম উদ্দিন; বানিয়াল গ্রামের মুজিব উদ্দিন শেখ; ইসমাইলপুরের মনির উদ্দিন, মমতাজ উদ্দিন; বৈগ্রামের ইয়াদ আলী; চেংগ্রামের ওয়াসিম উদ্দিনসহ মোট ৩৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্য শহীদ হন। মুহাড়াপাড়ায় নির্মিত “সম্মুখ সমর” স্মৃতিস্তম্ভ আজও তাঁদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার লিয়াকত আলী জানান, ২৫ মার্চ ঢাকায় গণহত্যার পর হিলিতে মরহুম খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন হয়। স্কুল–কলেজের ছাত্র ও তরুণদের নিয়ে গড়া এই বাহিনী গাছ কেটে রাস্তা খনন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পাক সেনাদের অগ্রযাত্রা ঠেকায়। পরে থানা ও ইপিআর ক্যাম্প থেকে ৩০৩ রাইফেল সরবরাহ করা হয়। হাবড়া এলাকায় সম্মুখযুদ্ধে গোলাবর্ষণে ওই দলের ৯ যোদ্ধা শহীদ হন।

হিলির ছাতনী গ্রাম ও মুহাড়াপাড়া ছিল পাক বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি। প্রায় ৬–৭ হাজার পাক সেনা ও ৪০টি ট্যাংক সেখানে অবস্থান নেয়। ৬ ডিসেম্বর হাকিমপুরে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ের পর ১০ ডিসেম্বর আকাশ–স্থল দুই দিক থেকে সমন্বিত আক্রমণে পাক ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। দুই দিনের রুদ্ধশ্বাস যুদ্ধে পাক বাহিনী পরাস্ত হলে ১১ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে হিলি–হাকিমপুর হানাদারমুক্ত হয়।

দিনটি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এ বছরও র‌্যালি, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া–মোনাজাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। “সম্মুখ সমর” স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী।

আরও খবর

Sponsered content