নাহিম মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক (সিলেট) ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:৪৬:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত করতে আমূল সংস্কার, নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং আধুনিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সিলেট নগরীর জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনের বিদ্যমান ঘাটতি ও অদক্ষতা দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, পরীক্ষায় নকলের ধরন পরিবর্তিত হয়ে ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং নকলের সংজ্ঞা বিস্তৃত করে সব ধরনের অনিয়মকে এর আওতায় আনা হবে। পরীক্ষার মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নমুনাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষকদের কাজের মান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে ক্লাসরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মনিটরিং জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমসহ সব ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি ও বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সরকার অগ্রাধিকার দেবে।
তিনি বলেন, সময়োপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষক, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নৈতিকতা ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাই আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী ও কয়ছর আহমদ, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নুরুল হক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




















