প্রতিনিধি ১৫ আগস্ট ২০২৬ , ১০:৫০:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে থাকা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডে মারা গেছেন। শুক্রবার দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসি এলাকার একটি ঠিকানা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী আরডের মৃত্যু বর্তমানে অপ্রত্যাশিত হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
আরডে সম্প্রতি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তার গবেষণার বিভিন্ন অংশে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি একাডেমিক ক্যারিয়ারের কিছু দাবি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তবে তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর এক বিবৃতিতে পরিবার জানায়, তারা একজন বাবা, সঙ্গী, ভাই, চাচা ও সন্তানকে হারিয়ে গভীরভাবে শোকাহত। পরিবার আরও দাবি করে, আরডেকে ঘিরে ছড়ানো ভুল তথ্য ও বিভিন্ন অভিযোগের প্রচারণা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল।
কেমব্রিজ থেকে পদত্যাগের সময় আরডে বলেছিলেন, তাকে ঘিরে প্রকাশ্য বিতর্ক ও সমালোচনা তার ওপর অসহনীয় ব্যক্তিগত চাপ তৈরি করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একাডেমিক ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ও সমালোচনা স্বাভাবিক হলেও তার ক্ষেত্রে বিষয়টি সেই সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়া হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
আরডেকে ঘিরে বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে কেমব্রিজের সাবেক শিক্ষাবিদ নাথান কোফনাসের অভিযোগের পর। কোফনাস দাবি করেন, আরডের একাধিক গবেষণাকর্মে অন্যের কাজ যথাযথভাবে উদ্ধৃত না করার ঘটনা রয়েছে।
আরডে অবশ্য প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তার আগের কিছু একাডেমিক কাজে ভুল থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, অটিজমের কারণে তথ্য প্রক্রিয়াকরণে কিছু ক্ষেত্রে অনুকরণের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
আরডের পিএইচডি প্রদানকারী লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটি তার থিসিস নিয়ে তদন্ত করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো সিদ্ধান্তে তারা পৌঁছায়নি। তবে তার নিয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় চলতি সপ্তাহে নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তদন্তের ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডেবোরা প্রেন্টিস জানান, তদন্তটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।
মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ২০২৩ সালে কেমব্রিজে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান আরডে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম কনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি পান। ব্রিটিশ উচ্চশিক্ষায় কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তার নিয়োগকে তখন বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর পর তার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিতর্কের সময় বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতি যথেষ্ট সহায়তা দিয়েছিল কি না, তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
আরডের বন্ধু ও ব্ল্যাক স্টাডিজের অধ্যাপক কেহিন্ডে অ্যান্ড্রুজ জানান, কেমব্রিজ থেকে পদত্যাগের পর আরডে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বাড়ির বাইরে খুব একটা বের হতেন না এবং উল্লেখযোগ্যভাবে ওজনও হারিয়েছিলেন বলে দাবি করেন অ্যান্ড্রুজ।
তার মতে, এই ঘটনা একাডেমিক জগতে বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাবিদদের ওপর তৈরি হওয়া চাপ ও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।





















