মোঃ রাশেদ মিয়া , স্টাফ রিপোর্টার: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:৪১:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার বাইরে দেশের দ্বিতীয় এবং উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ বিশেষায়িত ক্যান্সার কেয়ার ইউনিট হিসেবে ‘টিএমএসএস হেমাটোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর (বুধবার) বগুড়ার হোটেল মম ইন-এ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেন্টারটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে একটি সফল সাইন্টিফিক প্রোগ্রাম আয়োজনের মাধ্যমে কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়।
এই অত্যাধুনিক ইউনিট চালু হওয়ায় উত্তরবঙ্গ ও আশপাশের অঞ্চলের রোগীরা ব্লাড ক্যানসার এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের মতো জটিল চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা বা বিদেশে যেতে হবে না। সাশ্রয়ী খরচে নিজ অঞ্চলে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই সেন্টারটি স্থাপিত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমএন্ডডিসি)-এর সভাপতি প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন,“ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষায় টিএমএসএস একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উত্তরবঙ্গে এই প্রথম হেমাটোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার স্থাপনের এই মহতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।”
টিএমএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. হোসনে আরা বেগম বলেন,“বগুড়ায় এমন অত্যাধুনিক ক্যান্সার কেয়ার ইউনিট চালু হওয়ায় রোগীরা সাশ্রয়ী খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এটি ঢাকার ওপর রোগীদের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাবে।”
সেন্টারের চিফ কনসালটেন্ট ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ জানান,“এখানে রোগীরা নির্ভুল টেস্ট রিপোর্ট এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পাবেন। এই ইউনিট চালুর মাধ্যমে দেশে হেমাটোলজি সেবার আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে টিএমএসএস-এর প্রতিশ্রুতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।”
সাইন্টিফিক প্রোগ্রামে দেশের শীর্ষস্থানীয় হেমাটোলজিস্ট ও চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে হেমাটোলজি, অঙ্কোলজি এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের সাম্প্রতিক অগ্রগতি, বাংলাদেশে এর প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএস-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক রোটারিয়ান ডা. মো. মতিউর রহমানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট চিকিৎসাবিদ ও বিশেষজ্ঞবৃন্দ। এই উদ্যোগ স্বাস্থ্য খাতে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




















