সারাদেশ

বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ‘ড্রেসার’

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ৩:৩০:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ


রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণে দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দেরিতে অফিসে উপস্থিতি, সরকারি ওষুধ ও ভ্যাকসিন বিক্রি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে ড্রেসার দিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো ঘটনায় ক্ষোভ বেড়েছে খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরু হলেও ভেটেরিনারি সার্জন শরিফুল ইসলাম নিয়মিত বেলা ১১টার পর অফিসে আসেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রশ্রয়েই এ ধরনের অনিয়ম চলছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা মেলে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ফিল্ড ভিজিটের অজুহাত দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন ও ওষুধ গোপনে বাইরে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে রাকিব হাসান নামে এক পল্লী চিকিৎসকের (পি-আই লাইসেন্সধারী) সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হলেও তিনি পালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার যোগসাজশেই এই অনিয়ম চলছে। হাসপাতালে আসা সেবাপ্রার্থীরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে শুধু প্রেসক্রিপশন দিয়ে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।

এদিকে ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে ড্রেসার রনি চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও তিনি গবাদিপশুকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তার দেওয়া প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কিছু প্রমাণ সংবাদকর্মীদের কাছেও রয়েছে। এক খামারি বলেন, “ড্রেসার যদি ডাক্তারের কাজ করেন, তাহলে আমাদের পশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। আমরা সঠিক সেবা পাচ্ছি না।”

দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। এই জনবল সংকটের সুযোগে অনিয়ম আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দেননি।

এ পরিস্থিতিতে বাঘার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও খবর

Sponsered content