শেখ জোবায়ের আল জামান , সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:৫৬:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতীয় নাগরিকের নামে জমি রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর একের পর এক হয়রানি ও ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করেন যশোর জেলা রেজিস্ট্রার আবু তালেব। তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট আইন ও নথিপত্র উপস্থাপন করে সন্তোষজনক জবাব দেন সদর সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু।
সূত্র জানায়, এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের মাধ্যমে অবৈধভাবে জমি রেজিস্ট্রি করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। আইনগত অসঙ্গতির কারণে সাব-রেজিস্ট্রার দলিলটি রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে দলিলের গ্রহীতা স্বেচ্ছায় দলিলটি ফেরত নেন।
এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবুর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের দাতা মোকসেদুর রশিদ (পিতা—মৃত মোমেনার রশিদ) অনুপস্থিত থাকলেও এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ এককভাবে দলিলটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করেন। অথচ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৩৪(১) ও (খ), (গ) অনুযায়ী দাতার উপস্থিতি ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি আইনসম্মত নয়।
উক্ত দলিলের তফশীলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লক্ষীদাড়ী মৌজাধীন বিআরএস ৫০৮ নং খতিয়ানের এসএ ১৭১৭ দাগে সূচিত বিআরএস ২১০৫ দাগের মোট ৩১ শতক জমির মধ্যে ১৮ শতক অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়। কিন্তু এর আগে ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ৮৯১৮/২০২০ নং দলিলের মাধ্যমে একই দাগের ১৪ শতক জমি ইতোমধ্যে হস্তান্তর হওয়ায় অতিরিক্ত জমি হস্তান্তরের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ সংক্রান্ত জমি নিয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ, ১ম আদালতে দেওয়ানি মামলা নং ৬৯/২০১৯ (তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২২) চলমান রয়েছে। মামলার আদেশ নং ৩৯ (২২ মার্চ ২০২৩) অনুযায়ী মোকসেদুর রশিদ মন্ডলসহ সংশ্লিষ্টদের ভারতীয় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি গ্রহণ করায় দলিলের দাতাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, খুলনায় সংশ্লিষ্ট ভূমি সংক্রান্ত মিস আপিল নং ৯২/২০২৫ (তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০২৫) বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখের ৮৯১৮/২০২০ নং দলিল বাতিল সংক্রান্ত কোনো আদেশ আদালত থেকে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে না আসায় একই জমি পুনরায় হস্তান্তর আইনত সম্ভব নয়। ভারতীয় ওয়েবসাইট যাচাই করে মোকসেদুর রশিদ মন্ডল (পিতা—মোমেনার হোসেন মন্ডল) নামের ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্বের তথ্য পাওয়া যায়। ফলে নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ১৪ অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬(১)(২) অনুযায়ী নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় এবং অনুচ্ছেদ ৪২(১) অনুযায়ী কেবলমাত্র বাংলাদেশের নাগরিকদেরই সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের অধিকার রয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে। আমি আমার লিখিত বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি।”





















