মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৮:০৫:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ডিউটি বরাদ্দ, সদস্য নিয়োগ ও ভাতা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী-এর মাধবপুর উপজেলা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা হবিগঞ্জ জেলা কমান্ডারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে মাধবপুর উপজেলা-র ৯৪টি কেন্দ্রে প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন করে মোট ১ হাজার ২২২ জন আনসার সদস্য ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। সরকারিভাবে প্রত্যেক সদস্যের জন্য ৮ হাজার ২৬০ টাকা ভাতা বরাদ্দ থাকলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও তালিকাভুক্ত সদস্যদের বাদ দিয়ে কয়েকশ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্বে নিয়োগ দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার ওয়াহাব ও দলনেতা হাবিব মিয়া নিয়মিত সদস্যদের পরিবর্তে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বদলি হিসেবে নিয়োগ দেন। ডিউটির সময় নিজেদের নাম গোপন রেখে অন্য নাম ব্যবহার করার নির্দেশও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তোফাজ্জল জানান, অস্থায়ী আনসার সদস্য কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, দুই কপি ছবি ও ১০০ টাকা নেওয়া হয়। ডিউটি শেষে তাকে দেওয়া হয় মাত্র ২ হাজার টাকা। পরে তিনি জানতে পারেন, সরকারিভাবে তার নামে বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ২৬০ টাকা। প্রাপ্য ভাতা চাইতে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলার কবিলপুর গ্রামের অন্তত ৩০ জন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে একই পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও তালিকাভুক্ত সদস্য নাজির মিয়া ও হেলাল মিয়া জানান, ডিউটির জন্য যোগাযোগ করলে তাদের বলা হয় জেলা তালিকায় তাদের নাম নেই। ফলে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তবে নির্বাচন শেষে হঠাৎ তাদের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৮ হাজার ২৬০ টাকা জমা হয়। পরে দলনেতা ফোন করে জানান, ভুলবশত টাকা চলে গেছে—ফেরত দিতে হবে। কর্মকর্তাদের কথায় বিশ্বাস করে তারা টাকা ফেরত দেন। পরে জানতে পারেন, তাদের নাম ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি ডিউটি পালন করেছেন এবং সরকারি ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা আনসার কর্মকর্তা মুকুল কানন দাবি করেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে নির্বাচনী ডিউটিতে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং শুধুমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অনুমোদিত সদস্যদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মজিবুল হক জানান, দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের প্রাপ্য সকল ভাতা যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।




















