প্রতিনিধি ১৯ আগস্ট ২০২৬ , ২:০৭:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। তার এই আহ্বানকে রুশ আগ্রাসন শুরুর সাড়ে চার বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ বলেন, ‘রাশিয়ার কাছে গণতন্ত্রকে জিম্মি করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ইউক্রেন লড়াই করছে কারণ দেশটি একটি স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে চায়।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। দেশটির আইনে সামরিক আইন চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই।
ফেদোরভ তার ভিডিওতে সরাসরি জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেননি। তবে তার বক্তব্যকে প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের প্রতি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে আকস্মিকভাবে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় তার এই বরখাস্তের ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভও হয়েছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ফেদোরভ বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। মন্ত্রণালয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা বাড়ানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগের জন্য তিনি প্রশংসিত হন।
তার বরখাস্তের পেছনে সেনাবাহিনীর প্রধান ওলেকসান্দর সিরস্কির সঙ্গে উত্তেজনাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই সিরস্কিকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফেদোরভকে পুনর্বহালের দাবিতে বাড়তে থাকা বিক্ষোভ জেলেনস্কি সরকারের ওপর চাপ তৈরি করেছিল।
পরে ফেদোরভকে সরকারের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে সামরিক উদ্ভাবনবিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রীর পদও ছিল। তবে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই কেবল ফিরতে চান।
নির্বাচনের দাবি জানালেও নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি ফেদোরভ। বরং তিনি ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যেও ‘আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত’ একটি ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা যায়।
জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হয়েছে। তবে সামরিক আইন বহাল থাকায় সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, কিয়েভ নির্বাচন এড়াতে যুদ্ধকে ব্যবহার করছে। জবাবে জেলেনস্কি বলেছিলেন, মিত্ররা নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত।
তবে যুদ্ধ চলাকালে অবাধ ও নিরাপদ নির্বাচন আয়োজন করা ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত কঠিন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত রুশ হামলা হচ্ছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। ফলে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ভোটাধিকার এবং যুদ্ধক্ষেত্রের এলাকায় ভোট আয়োজনসহ নানা জটিলতা রয়েছে।
ফেদোরভ ইউক্রেনকে একটি ‘ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিগত সংকটের’ মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে পরিবর্তন নিয়ে দেশটি ভয় পাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, দুর্নীতিও ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার আগে ফেদোরভ ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুতে তিনি স্বেচ্ছাসেবী ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেন’ গড়ে তোলেন, যা রুশ লক্ষ্যবস্তুতে সাইবার হামলা চালানোর কাজে যুক্ত ছিল।
পরে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ নামে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারে উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু এবং রুশ লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার জন্য ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে ক্রেডিট দেওয়ার ব্যবস্থাও করেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ড্রোন, উচ্চপ্রযুক্তির যুদ্ধ এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে তার জোর অব্যাহত ছিল। রাশিয়ার ড্রোন হামলায় স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।















