প্রচ্ছদ » সারাদেশ » রংপুরে চার খুনের আসামির ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ
রংপুরে চার খুনের আসামির ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ
মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ৩০ আগস্ট ২০২৬ , ১২:২০:৪১প্রিন্ট
সংস্করণ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে মাছুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার জানান, চার হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে তিন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেল আটকে দেন এবং চাবি নিয়ে নেন। একপর্যায়ে পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন।
সেলিম সরকারের অভিযোগ, স্থানীয় লোকজনের সামনে পার্থ দাস তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেন এবং তার ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে বলে দাবি করেন। পরে ঘটনাস্থলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল উপস্থিত হয়। ডিবি সদস্যরা ব্যাগটি খুলে তল্লাশি করে দেখেন। তবে সেখানে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে মৌন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে সাংবাদিক সেলিম সরকারকে হেনস্তা করেন। কয়েকজন তাকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি উল্টো তাদের সঙ্গে রাগারাগি করেন।
ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস ও তার বাবা বিনয় দাস বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তারা অনেক সময় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। এতে মনে হচ্ছে, তারা ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট।
বৈশাখী টিভির প্রতিনিধি মেজবাহুল হিমেল বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণমাধ্যমকর্মীরা আসামিপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছেন। এরপরও একজন সাংবাদিককে হেনস্তা করা দুঃখজনক।
এ বিষয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছিল। পরে ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তার ব্যাগ তল্লাশি করেন। ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া অন্য কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।