প্রতিনিধি ১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:৪৮:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ আলম খানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১ ডিসেম্বর) খুলনার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান এ আদেশ দেন।
এর আগে পারভেজ আলম খান চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পান। হাইকোর্টের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে নিম্ন আদালতের বিচারক গত ৩০ অক্টোবর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ পূর্বের আদেশ ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করেন। মেয়াদ শেষে সোমবার তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাধীন ময়লাপোতা মোড়ে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার অভিযোগে অ্যাডভোকেট এম এম মজিবর রহমানকে আটক করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, মজিবর রহমান মোবাইল ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং তাদের সঙ্গে যোগসাজশে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করতে ও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছিলেন।
পরে এই চক্রান্তের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে খালিশপুর থানার একটি জিডির সূত্র ধরে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বিধান চন্দ্র রায় বাদী হয়ে গত ১১ আগস্ট অ্যাডভোকেট এম এম মজিবর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অ্যাডভোকেট পারভেজ আলম খান, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন ও জুয়েলসহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট এ কে এম শহিদুল আলম শাহিদ জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার ৩ নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট পারভেজ আলম খান। তিনি উল্লিখিত আসামিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিলেন। আসামি পারভেজ আলম খান ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিম্ন আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন ও তা বর্ধিত করা হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।




















