লিখেছেন- ইকবাল খন্দকার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১২:৪০:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
শাবনূরের মতো সৌভাগ্যবতী নায়িকা সারা দুনিয়া খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। একজন বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে প্রেম করে বেড়ালো, সেই পুরুষের রহস্যজনক মৃত্যু হলো, তার স্ত্রী ঘৃণার পাত্রী হলো অথচ তাকে অর্থাৎ শাবনূরকে রিমান্ডে যেতে হলো না। কী কপাল এই নায়িকার! সালমান-সামিরার বিয়েটা প্রেমের ছিল। মানলাম সামিরা মানুষ হিসেবে ভালো ছিল না, কিন্তু কাগজে-কলমে সালমানের বউ তো ছিল! ডিভোর্স তো আর হয়নি তাদের! তাহলে সালমান কীভাবে পরকীয়ায় জড়ান? জড়িয়েছেন, অশান্তিতেও ভুগেছেন। শেষে তো বেঁচেও থাকতে পারলেন না। অথচ শাবনূর চোখ মুছে অন্য নায়কের সঙ্গে ওইসব সিনেমার শুটিং শুরু করে দিলো, যেগুলো করার কথা ছিল সালমানের সাথে। শেষ ঠিকানা, কে অপরাধী ইত্যাদি। ভালো, পেশাদার হওয়া ভালো। কিন্তু একটা সংসার তছনছ করে দিয়ে দিব্যি নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে মগ্ন থাকা, এখানে ওখানে বলা “সালমান আমাকে ছোট বোনের মতো দেখতো”- এটা বাটপারি। ঘরে বউ রেখে পরকীয়ায় জড়িয়ে সালমান যে অপরাধ করেছেন, এর মাশুল তিনি দিয়ে গেছেন জীবন দিয়ে। আর সামিরার মাশুল এটাই- তাকে মানুষের ঘৃণা আর অভিশাপ নিয়ে বাঁচতে হবে। এমনকি মরতেও হবে ঘৃণা আর অভিশাপ নিয়েই। কিন্তু যে শাবনূর নাটের গুরু, যার জন্য এত কিছু, সে কি একটা রিমান্ডও পাওনা ছিল না? রিমান্ড মানেই কাউকে টর্চার করা না। বরং সত্যটা সামনে আনার চেষ্টা। আমরা একজীবন কাটিয়ে দিলাম সামিরাকে গালিগালাজ করে। অথচ শাবনূরকে সঠিক জিজ্ঞাসাবাদের জোরালো দাবিটা উত্থাপন করতে পারলাম না আর পর্যন্ত। এদিকে সালমান শাহর মাও ক্রিটিক্যাল শাশুড়িদের মতো পুত্রবধূর পেছনেই লেগে থাকলেন। পুত্রের পরকীয়া-প্রেমিকার দিকে নজর দিলেন না। শুনতে তিক্ত লাগলেও এটাই সত্য- সালমান শাহর মৃত্যু রহস্যের জট কখনোই খুলবে না। সালমানভক্তরা বিচার পাবেন না। কিন্তু প্রকৃতির বিচার বলে তো একটা বিচার আছে, নাকি? শাবনূর সেই বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন বলবো না। তবে এটা বলবো এবং এটাই সত্য- শাবনূর ভালো নেই। একদম ভালো নেই। ববিতা একজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন জাফর ইকবালের প্রেম অস্বীকার করতে করতে। জাফর ইকবালের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক ছিল না- এটা প্রমাণ করার জন্য কত নাটক যে তিনি করেছেন! জি, সিনেমার মানুষ হয়েও বিস্তর “নাটক” করেছেন তিনি। কিন্তু আজকাল খেয়াল করবেন জাফর ইকবাল বিষয়ক প্রশ্নে তিনি কী বলেন, কী করেন। খেয়াল করবেন তার চোখ ভেজে কি না। ভেজে। ববিতার মতো সময় একদিন শাবনূরের জীবনেও আসবে। লাগাতার নিজেকে সালমানের ছোটবোন দাবি করা, একের পর এক চালাকি করা শাবনূর সেদিন স্বীকার করবে কী এক গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল দুজনের মধ্যে। শাবনূর কাঁদবে। চোখের পানিতে মেকআপ নষ্ট হওয়ার কোনও ভয় সেদিন তার থাকবে না।




















