প্রচ্ছদ

১২ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিলেন ট্রাম্প

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৫ জুন ২০২৫ , ১২:৫৮:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ইহুদিদের একটি সমাবেশে হামলা হওয়ার পর ১২ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ট্রাম্প। এর বাইরে আরও ৭ দেশের নাগরিকদের ওপর আংশিক নিষেধজ্ঞা জারি করেছেন তিনি।

যে ১২ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো— আফগানিস্তান, মিয়ানমার, শাদ, রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেন। এই দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

আর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বুরুন্ডি, কিউবা, লাউস, সিয়েরা লিওন, তোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনেজুয়েলা— এই সাত দেশের নাগরিকদের ওপর। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই দেশগুলোর নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় এই নিষেধাজ্ঞা জারির তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প নিজে।

গত ১ জুন রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বোল্ডার শহরে স্থানীয় ইহুদিদের একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে একের পর এক মলোটভ ককটেল বা পেট্রোল বোমা ছুড়ে অন্তত ১৫ জনকে আহত করার অভিযোগে সাবরি সোলাইমান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার ছোড়া পেট্রোল বোমায় বেশ সড়কে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুনও ধরে গিয়েছিল।

গাজায় জিম্মি হিসেবে আটক ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তির দাবিতে সমাবেশটি আয়োজন করা হয়েছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪৫ বছর বয়সী সোলাইমান একজন মিসরীয় নাগরিক এবং তিনি কয়েক বছর আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে আর ফিরে যাননি। ২০২২ সালে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন সোলাইামান। রোববারের পেট্রোল বোমা হামলার সময় তাকে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

রোববার এক্সে পোস্ট করা ভিডিওবার্তায় ট্রাম্প বলেন, “কলোরাডোর বোল্ডার শহরে সম্প্রতি যে হামলার ঘটনা ঘটল, তা আমাদের আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিলো যে যেসব বিদেশি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বসবাস করছেন, তারা আমাদের দেশ ও নাগরিকদের জন্য কতখানি বিপজ্জনক হতে পারেন।”

“আমরা এ ধরনের বিদেশি চাই না। আমরা চাই না ইউরোপে যা ঘটে, যুক্তরাষ্ট্রেও তা শুরু হোক। আমরা সেই সব দেশের নাগরিকদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করতে পারি না— যারা আমাদের দেশ ও নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।”

এর পরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা ১২ দেশ ও আংশিক নিষেধজ্ঞা জারি করা ৭ দেশের নামের তালিকা প্রকাশ করেন তিনি।

এখানে লক্ষ্যনীয় যে হামলাকারী সাবরি সোলাইমান মিসরের নাগরিক। ট্রাম্প যে ১২ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাষ্ট্র মিসরের নাম নেই।

সূত্র : এএফপি, সিবিএস

এমআই

আরও খবর

Sponsered content