মো: সাকিব চৌধুরী ২১ মে ২০২৫ , ৬:২৫:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
বৃষ্টিতে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় সবজিসহ গ্রীষ্মকালীন শস্যের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতে পানি জমে পচে যাচ্ছে ফসল। কৃষকরা বলছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বড় লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। এদিকে, চাষিদের ক্ষেত থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
টানা বৃষ্টির কারণে রংপুর নগরীর নিম্নাঞ্চল, অলিগলি ও রাস্তাঘাট ডুবে গেছে পানিতে। নগরীর নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০-২৫ টি গ্রাম এখন হাঁটু পানির নিচে। শুধু শহর কিংবা বন্দর নয়, গ্রামের ফসলের মাঠ, মাছের পুকুর, সবজি ক্ষেত সবই পানির নিচে।
রংপুরের অনেক জায়গায় এখনও পুরোপুরি ধান মাড়াই শেষ হয়নি। কেউ ধান কাটলেও ধান মাড়াই করতে পারেন নি বৃষ্টির কারণে। ফলে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারো কারো ধান পানির নিচে রয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে পানি না নেমে গেলে সেসব ধান আর কাটা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা।
এদিকে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে রংপুরের গংগাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলায় নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এতে করে ধান, বাদাম, কাউন, শাকসবজি, মরিচ ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা এই অঞ্চলের কৃষকরা। বিশেষ করে বাদামের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
কৃষক আমজাদ আলী দুই বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন, যার পুরোটাই এখন পানির নিচে। বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া ফসলের ক্ষেত পচনের হাত থেকে রক্ষায় শেষ চেষ্টা করছেন।
বুধবার (২১ মে) সরজমিনে দেখা গেছে, গত দুইদিনের বৃষ্টিতে রংপুর কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ ইউনিয়ন প্রায় ২৮ হেক্টর জমি হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বৃষ্টির পানিতে সবটুকু জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা মানিক মিয়া বলেন, গত বছরের সুদের টাকা এখনও শোধ হয়নি। এবারেও সুদের ওপর টাকা নিয়ে আবাদ করেছি। এখনও আসল টাকা ওঠেনি। এখন আবার বৃষ্টির পানিতে জমির ফসল তলিয়ে গেল। এখন আর কান্না ছাড়া কিছু করার নেই।
ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত মিজানুর রহমান বলেন, এমনিতেই চরাঞ্চলে এক মৌসুমের আবাদ হয়। সেটাও এবার আর হলো না। তিন একর জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। সব পানিতে ডুবে গেছে। এই পানি যে কবে কমবে তারও কোনো ঠিক নেই। তবে পানি কমলেও তত দিনে বাদাম নষ্ট হয়ে যাবে। এবার চরম ক্ষতির মুখে পড়লাম!
অন্যদিকে শুধু ফসল নয়, টানা বৃষ্টিতে রংপুরের মাছ চাষিরাও পড়েছেন বিপাকে। অনেকের পুকুর ভরে গেছে, পাড় ভেঙে ভেসে যাচ্ছে চাষ করা মাছ। মৌসুমের শুরুতে এক রাতেই পানিতে ভেসে গেছে তাদের স্বপ্ন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, ফসল পানিতে নিমজ্জিত হওয়া মানেই নষ্ট হয়ে যাওয়া নয়। যদি পানি এক সপ্তাহের মধ্যে সরে যায়, তাহলে জমির ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না। তাছাড়া জমির পানি যদি পরিষ্কার হয়, তাহলে তেমন চিন্তা নেই। তবে পানি কাদা মিশ্রিত হলে ফসল দ্রুত সারিয়ে তুলতে পানি স্প্রে করে কাদা ধুয়ে ফেলতে হবে। গত দু’দিনের তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেছে। দুই-এক দিন বৃষ্টি না হলেই পানি নেমে যাবে। তবে একেবারে যে ফসলের ক্ষতি হয়নি, সেটা বলবো না। কোথাও কোথাও ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে আছে।
এমআই




















