মাসুম বিল্লাহ, শেরপুর (বগুড়া) ১১ আগস্ট ২০২৫ , ১২:৪৫:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
করতোয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মাজেদা খাতুন (৫৫)। শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তিনি খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন।
রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে বগুড়া-৫ ও বগুড়া-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিএম সিরাজের ছেলে এবং বগুড়া জেলা ও শেরপুর উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানীর।
তাৎক্ষণিকভাবে রবিবার সকাল ১১টায় আসিফ সিরাজ রব্বানীর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মাজেদা খাতুনের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়ের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে একটি ঘর নির্মাণে সহায়তার লক্ষ্যে টিন প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বিপ্লব, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফরিদ, শেরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি মেম্বার বাবলু, সাবেক আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী বুলু, সুঘাট ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম মানু, সুঘাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম রেজা, ভবানীপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবি তাহের, ওয়ার্ড সভাপতি নুরুল আমিন, জিএম সম্রাটসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে শেরপুর উপজেলার সুঘাট ও মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা, বিনোদপুর ও মাওনা এলাকায় অন্তত পাঁচটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি বাড়ি, এতিমখানা, হাফেজিয়া মাদরাসা ও একমাত্র কবরস্থান ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।
বিশেষ করে উত্তরপাড়া গ্রামের মাজেদা খাতুন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নদীর বাঁকের প্রবল স্রোত এবং বাঙালি নদী খননের প্রভাবে করতোয়া নদীর ভাঙন গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান জানান, গত শনিবার ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাশিয়াবালা পয়েন্টে ভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে।














