সাইফুল ইসলাম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৮:১৯:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে প্রায় সাত মাস ধরে সংরক্ষিত ভারতীয় নাগরিক রাজন (৬৩)-এর মরদেহের অবশেষে সৎকার সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে পৌরসভার মনোহরবাজার শ্মশানঘাটে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মরদেহটি দাহ করা হয়।
রাজন ভারতের দিল্লি প্রদেশের বাসিন্দা, পিতার নাম দিলিপ হলেও তাঁর সুনির্দিষ্ট জেলার নাম জানা যায়নি।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট শরীয়তপুরের জাজিরা থানার পদ্মা সেতু দক্ষিণ এলাকা থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগে রাজনকে আটক করা হয়। পরে মামলা করে তাঁকে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা শেষে তিনি ‘আরপি বন্দি’ হিসেবে শরীয়তপুর কারাগারে থাকছিলেন।
গত ১৮ মে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস মরদেহটি সদর হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষিত ছিল। অবশেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার পর মরদেহটি দেশে ফেরত না পাঠিয়ে স্থানীয়ভাবেই সৎকারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ বলেন, “রাজন একজন আরপি বন্দি ছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ দীর্ঘ সময় হিমাগারে সংরক্ষিত ছিল। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর সৎকারের অনুমতি মেলে। আজ সকালে মরদেহটির সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”
ঘটনাটিকে স্থানীয় প্রশাসন দুই দেশের মধ্যকার মানবিক সমঝোতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে।














