প্রতিনিধি ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:৫০:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং দেশের সচ্ছল ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
সারজিস বলেন, ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতা না থাকলে নিজ অবস্থানে আমরা কেউ থাকতাম না। তাই সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সচ্ছল ব্যবসায়ীদের জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তায় পাশে দাঁড়াতে হবে।’
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় চেম্বার ভবনে ওয়ারিয়র্স অব জুলাই পঞ্চগড়ের আয়োজনে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জনগণ ও অভ্যত্থানের অংশগ্রহণকারীদের আকাঙ্ক্ষা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা রাজনৈতিক এজেন্ডার ঊর্ধ্বে রেখে ভাবতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন ১০ থেকে ১৫ হাজার গেজেটেড আহত যোদ্ধাদের নিয়ে সরকার কাজ শুরু করে, তখন এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায়। একইভাবে প্রায় ৯ শতাধিক গেজেটেড শহীদ পরিবারকে নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।’
সারজিস বলেন, ‘পঞ্চগড়ে ৫টি শহীদ পরিবার এবং ৪১ জন আহত যোদ্ধা রয়েছে। এখান থেকে আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ থাকবে যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যেসব সুবিধা আসে, সেখানে প্রকৃত দাবিদাররা যেন অগ্রাধিকার পান। অনেক পরিবার আছে যাদের চলতে খুব সমস্যা হয়। তাই তাদের পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন প্রয়োজন, খুবই প্রয়োজন। যারা গৃহহীন, তাদের জন্যেও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।’
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারের কাছে যেটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, সেখানে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক দল একাত্মতা ঘোষণা করে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের স্থায়ী আবাসস্থল ও যাদের জরুরি কর্মসংস্থানের প্রয়োজন, তাদের সেই সুবিধা প্রদান করতে হবে। এতে কাজটি আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে সবার সম্মিলিত উদ্যোগে তা সম্ভব হবে।’
এদিন অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের স্মরণ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
এসময় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ, জামায়াত নেতা শফিউল্লাহ সুফি, ইসলামী আন্দোলন পঞ্চগড়ের সহ-সভাপতি ক্বারী মো. আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




















