সিলেট ব্যুরো ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:৪৭:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রাঙ্গণে তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের প্রবেশে ‘মৌখিক নিষেধাজ্ঞা’ জারির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে হবিগঞ্জের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মো. মুহিব আহমদ অভিযোগ করেন, তিনি আত্মীয়কে নিয়ে সৌদি আরবগামীদের তাকামুল সনদ সংক্রান্ত কাজে সিলেট টিটিসিতে গেলে কম্পিউটার অপারেশন ট্রেডের ইন্সট্রাক্টর মো. ওমর ফারুক ইচ্ছাকৃতভাবে তার আত্মীয়কে ফেল করান। প্রতিবাদ জানাতে গেলে অধ্যক্ষ শেখ মোহাম্মদ নাহিদ নিয়াজের কাছে বিষয়টি বললে তিনি ‘দুর্ব্যবহার করে’ ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রবেশে পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মুহিব আহমদ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় অধ্যক্ষ, সংশ্লিষ্ট ইন্সট্রাক্টর ও কয়েকজন প্রশিক্ষকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—অত্র প্রতিষ্ঠানে কোনো অনলাইন, প্রিন্ট ও টেলিভিশন সাংবাদিক খবর সংগ্রহ করতে চাইলে অন্তত এক দিন আগে অনুমতি নিতে হবে।
সিলেট টিটিসির অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ইন্সট্রাক্টরদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম–দুর্নীতির সংবাদ সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যম প্রকাশিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্ধ—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক। তাকামুল সনদ প্রদান প্রক্রিয়ায় ‘চ্যানেলভিত্তিক’ আর্থিক লেনদেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো এবং আনুষঙ্গিক নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগও তারা উত্থাপন করেন। তবে এ অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ শেখ মোহাম্মদ নাহিদ নিয়াজ ও ইন্সট্রাক্টর মো. ওমর ফারুকের মোবাইল ফোনে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া গেলে এ প্রতিবেদনে হালনাগাদ করা হবে।
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলে বিদেশগমনের প্রাক–প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ে টিটিসির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সনদ প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা।
উল্লেখ্য, তাকামুল সনদ–সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারে বলে আইনজ্ঞরা মত দিয়েছেন।




















