প্রতিনিধি ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:৫৭:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
দেড় যুগেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে স্বদেশে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিমানবন্দরে আলিঙ্গন ও করমর্দনের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দলের সিনিয়র নেতারা তাকে স্বাগত জানান। এ সময় উপস্থিত সবার সঙ্গে কোলাকুলি ও করমর্দন করেন তারেক রহমান। নেতাদের চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার আবেগ—যা তাদের কাছে এক ভিন্ন অনুভূতির জন্ম দেয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার মা বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। এরপর থেকেই তিনি বিদেশে অবস্থান করে ভার্চুয়ালি সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে দল পরিচালনা করে আসছিলেন।
লন্ডনে অবস্থান করেই তিনি বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। এতে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি গণমানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হন।
উল্লেখ্য, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। ১৮ মাস কারাবন্দি থাকাকালে তিনি অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তিনি। এক সপ্তাহ পর, ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
প্রবাসে থাকার সময়ই ২০১৫ সালে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে হারান তারেক রহমান। ভাইয়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাননি তিনি। দীর্ঘ সময় মায়ের সান্নিধ্য থেকেও বঞ্চিত ছিলেন এই বিএনপি নেতা।




















