সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:৫৫:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় সরকারি সড়কের পাশে রোপণ করা মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে হাজিরা না দিয়েও প্রকাশ্যে চলাফেরা করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের আলমপুর–দিঘলী এলজিইডি সড়কের দিঘলী মোড় থেকে জিলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় রোপণ করা ৩১টি মেহগনি গাছ গত ১৮ নভেম্বর কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গাছের বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনে গাছগুলো কাটা হলেও রাতের আঁধারে ট্রাকযোগে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা কয়েকটি যানবাহন ও গাছের অংশ আটক করেন। কয়েক বছর আগে সরকারি উদ্যোগে সড়কের পাশে এসব গাছ রোপণ করা হয়েছিল। সে সময় বিক্রির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের একটি অংশ দেওয়ার আশ্বাস থাকলেও কাউকে অবহিত না করেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সরকারি সম্পদের গাছ কাটতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের অনুমোদনসহ একাধিক আইনি শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক হলেও এ ঘটনায় তার কোনোটিই অনুসরণ করা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদারের নির্দেশে মাসকা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে বর্তমানে নেত্রকোনা আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে মামলার একমাত্র আসামি এখনো আদালতে হাজিরা দেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তার বা আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে তিনি প্রভাব খাটিয়ে থানা এলাকা ও আশপাশে অবাধে চলাফেরা করছেন। এমনকি থানায় নিয়মিত যাতায়াত ও পুলিশের সঙ্গে এক টেবিলে বসে চা পান করার দৃশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও আইন প্রয়োগের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ঢাকা যাচ্ছি, এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।”
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাকসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অল্পদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার, মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।




















