হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:১৯:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ করেছিলেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন হয়েছে সন্তোষজনক। বর্তমানে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ মূলত সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরেই বেশি হয়ে থাকে। যার সিংহভাগ চাষ হয় পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ২৪১ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার চাষ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে।
কৃষি বিভাগ জানায়, ফলনও হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো। মাত্র দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই কৃষকরা এই মসলা জাতীয় ফসলের সুফল ঘরে তুলতে পারছেন। যদিও সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও বর্তমান বাজারদরে কৃষকরা সন্তুষ্ট।
উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক সোহেল হোসেন জানান, “বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পদ্মার চরে ৫ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ করি। আবহাওয়া ভালো থাকায় বিঘাপ্রতি প্রায় ৭০ মন ফলন পেয়েছি। স্বল্প সময়ের এই ফসল পাইকারদের কাছে বিক্রি করে ভালো লাভ হয়েছে। বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পেরেছি।”
পেঁয়াজ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চরাঞ্চলে নারী শ্রমিকদের আয়ও বেড়েছে। প্রতিদিন একজন নারী শ্রমিক গড়ে ৩০০ টাকা বা তারও বেশি আয় করছেন। এতে সংসারের বাড়তি যোগান হচ্ছে বলে জানান কুলসুম আরা নামে এক নারী শ্রমিক।
এদিকে কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন আড়ত ও ব্যবসা কেন্দ্রে সরবরাহ করছেন পাইকার ব্যবসায়ীরা। এতে তারাও লাভবান হচ্ছেন। তবে তারা দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাইরের দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করার দাবি জানান।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চর এলাকার কৃষকদের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনাসহ সার্বিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষকরা যদি এভাবে লাভবান হতে থাকেন, তাহলে আগামীতে পেঁয়াজ চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এতে আমদানি নির্ভরতা কমবে।”




















