এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:৫২:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (৪৬০৫) শাখায় ঋণ বিতরণকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে শার্শা উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক সালমা খাতুন এবং মাঠকর্মী তাপস পাল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৃত দরিদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বঞ্চিত করে আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঋণ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকের ঋণ তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত।
তথ্য অনুযায়ী, সালমা খাতুন ২২ অক্টোবর ২০১৮ থেকে ২৭ নভেম্বর ২০২২ পর্যন্ত ঝিকরগাছা শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বকালীন সময়ে ২০২২ সালের ১৯ জুন ও ৪ আগস্ট দুই দফায় অন্তত পাঁচজনের নামে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ঋণের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা না নিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বিশেষ করে রাবেয়া বেগম ও তার মেয়ে ছবিরন বেগমের নামে ঋণ তোলা হলেও তারা তা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। পরে সংবাদ প্রকাশের পর তাদের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাকি তিনজনের ঋণ এখনো বকেয়া রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাহকের অজান্তে তাদের নামে ঋণ তোলা হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়ম। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রাবেয়া বেগম বলেন, তিনি কোনো ঋণ নেননি। তবে পরে তিনি ঋণ পরিশোধের বিষয়টি স্বীকার করেন। মোজাম্মেল বিশ্বাস জানান, তিনি ঋণ নিয়েছেন এবং পরিশোধ করবেন।
মাঠকর্মী তাপস পাল বলেন, “তৎকালীন ব্যবস্থাপকের নির্দেশেই ঋণ দেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে সালমা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঋণ অফিসিয়াল প্রক্রিয়াতেই দেওয়া হয়েছে এবং গ্রাহকরা তা পরিশোধ করবেন।
বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আগে নীতিমালা ভিন্ন থাকলেও এখন এক পরিবারে একজনকে ঋণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। বর্তমানে বকেয়া ঋণ আদায়ের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. জাকির হুসাইন বলেন, বিষয়টি তাদের জানা আছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




















