সারাদেশ

টঙ্গীতে ২১ বস্তিতে মানবেতর জীবন, পুনর্বাসনের দাবি বাসিন্দাদের

  মো. নুরুজ্জামান শেখ, গাজীপুর প্রতিনিধি ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:২৫:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ


গাজীপুরের শিল্পনগরী টঙ্গী এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ২১টি বস্তি, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নদীভাঙা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বসবাস করছেন। জীবিকার তাগিদে এখানে আশ্রয় নিলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার মধ্যেই কাটছে তাদের জীবন।

সরেজমিনে দেখা যায়, এসব বস্তির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর, কারখানার শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি কিংবা রিকশা-ভ্যান চালক। কঠোর পরিশ্রম করেও আয় অপ্রতুল হওয়ায় অনেক পরিবারেরই নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বস্তিকে কেন্দ্র করে অপরাধের ধারণা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ বাসিন্দাই সৎ ও পরিশ্রমী। অল্পসংখ্যক ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো বস্তিবাসীর ওপর চাপানো হয়, ফলে তারা সামাজিক বৈষম্য ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির শিকার হচ্ছেন।

বস্তিবাসীদের অভিযোগ, এখনো তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল, স্বাস্থ্যসেবা প্রায় অনুপস্থিত এবং শিক্ষার সুযোগও সীমিত। অনেক শিশু স্কুলে যেতে পারে না, অল্প বয়সেই কাজে নামতে বাধ্য হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ভয়ও সবসময় থাকে।

বাসিন্দারা জানান, সরকারি কোনো স্থায়ী সহায়তা তারা পান না। মাঝে মাঝে কিছু বেসরকারি সংস্থার সহায়তা মিললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের মধ্যে যারা খারাপ কাজ করে তারা খুব কম। কিন্তু তাদের জন্য পুরো বস্তির মানুষকে খারাপ বলা হয়। আমরা সৎভাবে বাঁচতে চাই।”

বস্তিবাসীদের প্রধান দাবি, সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। নিরাপদ বাসস্থান, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হলে তারা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারবেন বলে মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, টঙ্গীর মতো শিল্পাঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষের জন্য পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এতে বস্তির সংখ্যা কমার পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

সচেতন মহলের প্রত্যাশা, বস্তিবাসীর এই দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

আরও খবর

Sponsered content