প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৬ , ১০:৩৪:২১ প্রিন্ট সংস্করণ
ইসলামী শিক্ষা চরমপন্থাকে উস্কে দেয়-নিখিলবিশ্ব আহমদিয়া মুসলিম জামাতের প্রধান গত শনিবার (১৬ মে) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃতপক্ষে ভূ-রাজনৈতিক দ্বৈতনীতি, ব্যর্থ নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার বেপরোয়া অন্বেষণের কারণেই বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের টিলফোর্ডে অবস্থিত ইসলামাবাদে একটি জাতীয় শান্তি সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ বলেন, বিশ্বের সংকটগুলোর জন্য বারবার ইসলামকে দায়ী করার প্রচেষ্টায় মুসলমানরা গভীরভাবে মর্মাহত, অথচ কিছু কিছু সরকার এবং পরাশক্তি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলেছে।
হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ বলেন: “(ইসলামের বিরুদ্ধে) এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং অত্যন্ত ক্ষতিকর।”
ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মকে অযথা বলির পাঁঠা বানানোর পরিবর্তে, বিশ্বের জন্য এ মুহূর্তে একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যে মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন- আর তা হলো- সম্মিলিতভাবে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা।
টিলফোর্ডের ইসলামাবাদে অবস্থিত আহমদীয়া জামাতের সদর দপ্তরে সমবেত ৬০০ জন অংশগ্রহণকারীকে সরাসরি সম্বোধন করে হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ বলেন, ধর্ম নয়, বরং বর্তমানে বিশ্বনেতারাই তাদের হীন স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে মানবতাকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ বলেন:“ধনী ও ক্ষমতাশালীদের নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি এবং অন্যদের উপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষাই এই বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলার মূল কারণ।”
হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ সেসব বিশ্বনেতাদের দ্বৈতনীতিরও সমালোচনা করেন যারা সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ বলেন: “শান্তি অর্জনের জন্য ত্যাগের মানসিকতাও থাকা প্রয়োজন।একটি জাতি নিজেরা কোনো ছাড় দিতে অস্বীকার করবে আর অন্যদের কাছ থেকে সব ধরনের ছাড় আশা করবে, এটা হতে পারে না ।”
তারা যে কোন পরিস্থিতিতে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নীতির চেয়ে কৌশলগত জোটকে অগ্রাধিকার দেয় এবং তাদের মিত্রদেরকৃত অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতার প্রতি চোখ বন্ধ করে রাখে।
খলিফা তাঁর ভাষণে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতা ও বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, তাঁদের কেউই ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার জন্য ইসলামকে দায়ী করেননি। বরং তাঁরা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, লাগামহীন সামরিক আগ্রাসন এবং নিজেদের ব্যর্থতা থেকে মনোযোগ অন্যত্র সরানোর জন্য এহেন সরকারগুলোকে দায়ী করেছেন।
এ মুসলিম নেতা তাঁর ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে সামরিক হস্তক্ষেপের ন্যায্যতা হিসেবে নারী অধিকারের বিষয়টির ছুঁতো ব্যবহার করাকেও তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
ভাষণ জুড়ে হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ বারবার জোর দিয়ে বলেন, ইসলামের শিক্ষা নিরুঙ্কুশ ন্যায়বিচারের দাবি করে – এমনকি শত্রুদের প্রতিও – এবং প্রকৃত শান্তি কেবল ন্যায্যতা, সংযম ও মীমাংসার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।
তিনি জোর দিয়ে বলেন: “সংঘাতের কারণ হওয়া তো দূরের কথা, ইসলামের শিক্ষা শান্তির দিকে এক স্থায়ী পথের দিশা দেয়।”
বিশ্ব এক ঐতিহাসিক সংকটময় মুহূর্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়ে খলিফা তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন “এক অগ্নিদগ্ধ বিশ্ব” উত্তরাধিকার সূত্রে না পায়, সেজন্য মানবজাতিকে এই খাদের কিনারা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত করেন।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় শান্তি সম্মেলনটি আহমদিয়া মুসলিম জামাতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নাগরিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বরেণ্য অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।




















