বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: ১৩ জুন ২০২৬ , ১২:০৭:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহীর বাঘা থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘদিনের একটি মহিষ চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন করে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর রাতে উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের আরিফপুর দেওয়ানপাড়া গ্রামের আলম সরকারের বাড়ির সামনে থেকে একটি পুরুষ মহিষ চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সাদা রঙের একটি পিকআপ ভ্যানে করে মহিষটি নিয়ে যাওয়া হয়। চুরি হওয়া মহিষটির আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ টাকা। এ ঘটনায় বাঘা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ চুরি হওয়া মহিষ ও ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হকের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত ২ জুন রাজশাহীর কাটাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় সজিব আলী (২৭) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি কাটাখালী থানার কুখন্ডি সোনারপাড়া গ্রামের রফিক আলীর ছেলে।
গ্রেপ্তারের পর আদালতের অনুমতিতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সজিব আলী মহিষ চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেন। পরে গত ৮ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, “জনগণের জানমাল রক্ষা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ক্লুলেস মামলাগুলোরও রহস্য উদঘাটনে আমরা কাজ করছি। তদন্তের স্বার্থে অন্যান্য অভিযুক্তদের নাম আপাতত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর মামলার অগ্রগতি এবং আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী।




















