প্রতিনিধি ২৪ জুন ২০২৬ , ১২:৪৭:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন, পবিত্র কাবা শরিফ ধৌতকরণের ঐতিহ্যবাহী উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ জুন। প্রতি বছরের মতো এবারও অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যেই এই ধৌতকরণ উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। গত রাতে এশার নামাজের পর পবিত্র কাবার দরজার গিলাফের অংশটি ওপরে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ধৌতকরণের সময় ভেতরে যাতায়াত করতে কোনো সমস্যা না হয়। মূলত প্রতি বছর ফজরের নামাজের পর এই ঐতিহ্যবাহী ধৌতকরণ উৎসব শুরু হয়।
কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, আলেম, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে থাকেন। সৌদি আরবের বাদশাহ অথবা তার নিযুক্ত কোনো বিশেষ প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। কাবার ভেতরের দেয়াল ও মেঝে ধোয়ার এই কাজটি একই সঙ্গে একটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
এই ধৌতকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় জমজমের পানি এবং সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত দামি উদ ও গোলাপ জল। বিশেষ করে তায়েফের বাগান থেকে সংগৃহীত গোলাপ দিয়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ গোলাপ জল। কাবার ভেতরের দেয়াল ও মেঝে সুবাসিত করতে এবার ৪০ লিটার জমজমের পানি দুটি রুপার পাত্রে রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে মেশানো হবে ৫৪০ মিলিলিটার তায়েফি গোলাপ জল, ২৪ মিলিলিটার প্রিমিয়াম কোয়ালিটির গোলাপ তেল, ২৪ মিলিলিটার খাঁটি উদ তেল এবং ৩ মিলিলিটার কস্তুরী।
সাধারণত বছরে দুইবার কাবা শরিফ ধোয়ার এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমবার পবিত্র রমজান মাসের আগে এবং দ্বিতীয়বার পবিত্র হজ শেষ হওয়ার পর মহররম মাসের শুরুতে। কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ সীমিত হলেও এই উৎসবের ছবি ও ভিডিও চিত্র যখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের মনে এক গভীর আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে।
কেন এই আয়োজন
কাবা শরিফ পরিচ্ছন্ন রাখার এই মহৎ কাজটির পেছনে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। মহান আল্লাহর ঘরের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন এবং বিশ্বজুড়ে আসা হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য পবিত্র পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।








