অপরাধ

১২ হাজার টাকার ঋণ থেকে ১৩ লাখ টাকার চেক মামলা: ঠাকুরগাঁওয়ে দাদন ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ৭ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৩৭:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মাত্র ১২ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার পর জামানত হিসেবে নেওয়া ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকা বসিয়ে মামলা করার অভিযোগে এক দাদন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই কৌশলে উপজেলার অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারকে সুদের ফাঁদে ফেলে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের শিধোর বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত খাদেমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ। পরে দিনমজুর উত্তম কুমার রায়ের দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন বছর আগে ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা কাজীপাড়া গ্রামের দিনমজুর উত্তম কুমার রায় সংসারের অভাব মেটাতে খাদেমুল ইসলামের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা ঋণ নেন। অভিযোগ রয়েছে, সুদসহ ওই ঋণের দাবি একপর্যায়ে ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় পৌঁছায়। উত্তম কুমারের দাবি, ধার করা টাকার দ্বিগুণেরও বেশি পরিশোধ করার পরও জামানত হিসেবে দেওয়া ফাঁকা চেক ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে ওই চেকে ১৩ লাখ টাকা লিখে তার বিরুদ্ধে আদালতে চেক সংক্রান্ত মামলা করা হয়। গত তিন বছরে মামলাটি পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি দেড় লাখ টাকারও বেশি ব্যয় করেছেন বলে দাবি করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই ধরনের কৌশলে উপজেলার অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার সুদের কারবার ও ফাঁকা চেকের অপব্যবহারের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংক হিসাব খুলে দিয়ে চেকবইয়ের পাতায় স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হতো। পরবর্তীতে সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে সেই ফাঁকা চেকে বড় অঙ্কের টাকা লিখে আদালতে মামলা করা হতো বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরেক ভুক্তভোগী খমির উদ্দীন জানান, ২০২০ সালে তিনি ৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধেও ১০ লাখ টাকার চেক মামলা করা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি তিনি আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে জানান।

ভুক্তভোগী উত্তম কুমার রায় বলেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তিনি সুদসহ ৩৮ হাজার টাকা পরিশোধ করতেও রাজি ছিলেন। তবে কোনো সমঝোতা না করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের পর ভুক্তভোগীরা দায়ের করা কথিত হয়রানিমূলক চেক মামলাগুলোর তদন্ত, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং সুদের কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

আরও খবর

Sponsered content