প্রতিনিধি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১:২৭:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে সরকার গঠন করা হয়েছে। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই অবস্থায় দেশজুড়ে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য নিয়ে চলছে আলোচনা। এ আলোচনায় রয়েছেন বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্যতম নারী নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেত্রী; বিগত আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন সক্রিয়।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোক্তার উদ্দিন চৌধুরী ও মরিয়ম আক্তারের কন্যা লিলি। তার স্বামী শাহ নাসির উদ্দিন রুমন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক। নারী নেত্রী লিলি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচি পালনে ছিলেন সরব।
তানজিন চৌধুরী লিলি বলেন, দলের সংগ্রামে ছিলাম, দুঃসময়ে প্রতিটি কর্মসূচি পালন করেছি। নিজেরাও কর্মসূচি দিয়ে কাজ করেছি। দলের জন্য নিবেদিত ছিলাম। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলাম। কাজের মূল্যায়ন দল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ছাত্রজীবনেই লিলি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০৪ সালে অনার্স ও ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
২০০৪ সালে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন্নাহার হল শাখার আহ্বায়ক ও পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১/১১ ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনে সম্মুখসারিতে আন্দোলন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন মামলায় অভিযুক্ত আসামি ছিলেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মামলা, হামলার শিকার হয়েছেন।
তানজিন চৌধুরী লিলি ২০০৯ সালে গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এরপর থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দলের আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে হামলা-মামলার শিকার হন।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতির পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য সচিব শামসুন্নাহার হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলার আসনগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় নেমে নারীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তানজিন চৌধুরী লিলি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে সংসদে গেলে ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ দেশের নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, লিলি দলের আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় সামনে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে উনি মনোনয়ন পেতে পারেন এই আলোচনা মানুষের মুখে মুখে। রাজপথের এই নেত্রীকে সংসদে দেখতে চাই।
লিলি রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও রয়েছে তার উজ্জ্বল অর্জন। তিনি জাতীয় ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একাধিকবার অ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল ও ফুটবলে স্বর্ণ ও রৌপ্যপদক লাভ করেন। ২০০৫ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের হাত থেকে ‘শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ’ সম্মাননাও লাভ করেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।














