সারাদেশ

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সালথায় দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

  প্রতিনিধি ২৯ নভেম্বর ২০২৫ , ১:৩৬:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

‎ফরিদপুরের সালথায় এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৬টা বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজার এলাকায় তিনটি স্থানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ২০টি গ্রামের হাজারো মানুষ অংশ নেয়। এ সময় অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে গবাদি গশুসহ মালামাল।

‎এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। সম্প্রতি এই বিরোধের জেরে উভয় নেতার সমর্থকদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।জাহিদ ও নুরু মাতুব্বর বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী সরকারের পতনের পর তারা বিএনপিতে যোগ দিয়ে গট্টি ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

‎‎এরই ধারাবাহিকতায় মাঝে মাঝে একপক্ষ আরেক পক্ষের সমর্থকদের ওপর হামলা-পাল্টাহামলা চালিয়ে আসছিল। এরই জেরে শনিবার সকালে উভয়পক্ষের হাজারো সমর্থক দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা, টেটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায় এই সংঘর্ষ বালিয়া বাজার, কাঠিয়ার গট্টি গ্রাম ও বালিয়া গট্টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি, আড়ুয়াকান্দী, ঝুনাখালি, মেম্বার গট্টি, ভাবুকদিয়া, সিংহপ্রতাব, গট্টি, কানুইর, দিয়াপাড়া, জয়ঝাপ, আগুলদিয়া, মোড়হাটসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ অংশ নেন। এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে এলাকার নারী ও শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদকি-ওদিক ছুটাছুটি করতে দেখা যায়।

‎‎জানা যায়, সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এর মধ্যে ওমর ফারুক নামে এক যুবকের পাঁচটি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎‎এ বিষয় বক্তব্য নেওয়ার জন্য জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

‎জানতে চাইলে‎ সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) কেএম মারুফ হাসান রাসেল বলেন, সকাল থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content