সারাদেশ

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরাঞ্চলে অধিক লাভের আশায় আগাম মিষ্টি কুমড়ার চাষ

  আব্দুল আলীম প্রামানিক, গঙ্গাচড়া (রংপুর): ২৩ নভেম্বর ২০২৫ , ৪:৫৩:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরাঞ্চলে এবার ব্যাপক হারে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। অধিক লাভের আশায় আগাম মৌসুমেই কুমড়ার বীজ রোপণ করেছেন অধিকাংশ কৃষক। ভালো চারা গজানো ও সুস্থ গাছ বেড়ে ওঠায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে সন্তুষ্টির হাসি।

উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী বলেন, বর্ষায় তিস্তা নদীর খরস্রোত দু’কূল উপচে বন্যার সৃষ্টি করে এবং ফসল ও বসতঘর প্লাবিত হয়। অনেক ক্ষেতেই ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয় ফসলি জমিও। তবে বর্ষার শেষে নদীর বুকে জেগে ওঠা বালু চরে নতুন করে জীবন খুঁজে পান চরাঞ্চলের মানুষ। ধু-ধু বালুচরে ফসল ফলানো কঠিন হলেও জীবিকার তাগিদেই তারা এসব স্থানে চাষাবাদ করেন।

চরাঞ্চলে শাকসবজি, বাদাম, ভুট্টা ও মিষ্টি কুমড়ার চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। এগুলোর মধ্যে মিষ্টি কুমড়া লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের ঝোঁকও বেশি।

গজঘণ্টা ইউনিয়নের চর ছালাপাকের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “বালু চরে আগে গর্ত তৈরি করে তাতে বাইরে থেকে পলিমাটি এনে ভরা হয়। এরপর জৈবসার মিশিয়ে প্রতিটি গর্তে ৩-৪টি করে কুমড়ার বীজ বপন করি। কিছুদিন পরিচর্যা করলে ভালো চারা ওঠে এবং ফুল-ফল আসতে শুরু করে। বালুচরে গাছ ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেড়ে ওঠে, তাই মাচা দিতে হয় না। প্রতিটি গাছে ৮ থেকে ১০টি কুমড়া হয়। প্রতিটি কুমড়ার ওজন ৩-৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ক্ষেতেই প্রতি কুমড়া ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়।”

কৃষক রাজা মিয়া (৪৮) বলেন, “কম খরচে বেশি লাভ করতে চাইলে চরাঞ্চলের জন্য মিষ্টি কুমড়ার বিকল্প নেই। তবে সরকার যে প্রণোদনা দেয় তা খুবই অপ্রতুল। কুমড়া চাষে এবার প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি করছি।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলের কৃষকদের কুমড়া চাষে বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা আরও ভালো ফলন পান।”

আরও খবর

Sponsered content