এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ , ৯:৫৬:১০ প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৬নং ঝিকরগাছা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর ছিদ্দিকীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় সহি দিয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় তিনি ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে মাদ্রাসায় না আসলেও হাজিরা খাতায় নিজের উপস্থিতি দেখিয়ে মাসের পর মাস সরকারি বেতন-ভাতা তুলছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময় অসুস্থতার অজুহাতে সপ্তাহে এক-দুদিন মাদ্রাসায় উপস্থিত হন। এরপর পুরো সপ্তাহের হাজিরা খাতায় সই করে যান। গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, অধ্যক্ষের অফিসকক্ষ খালি। এমনকি রবিবার (২৬ অক্টোবর)ও তার উপস্থিতি দেখা যায়নি। হাজিরা খাতায় টানা তিন কর্মদিবস তার সহির ঘর ফাঁকা পাওয়া গেছে।
ওই সময় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনরত এটিএম আব্দুল আহাদ বলেন, “অধ্যক্ষ অসুস্থ। তবে ছুটির কোনো লিখিত আবেদন আমার কাছে নেই।”
একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “অধ্যক্ষ প্রায় সময় অসুস্থতার কথা বলে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন। সপ্তাহে এক-দুদিন এসে হাজিরা খাতায় পুরো সপ্তাহের সই দিয়ে যান।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমি আজ সকালে গিয়েছিলাম, সকাল সাড়ে ১১টার আগে চলে এসেছি।” তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবারের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফোন কেটে দেন।
মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, “তিনি অসুস্থ থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় কিছু বলা হয়নি। পরে মেডিকেল ছুটি নিতে বলা হলেও তিনি এখনো আবেদন করেননি।”
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম সুলতান মাহমুদ জানান, “গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা পরিদর্শনে গিয়ে তাকে অনুপস্থিত পাই। তাকে অফিসে দেখা করতে বলেছিলাম, কিন্তু এখনো আসেননি।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, একজন অধ্যক্ষের এমন আচরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।











