স্টাফ রিপোর্টার: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:৫৬:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ডিজিটাল প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের লাখো টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূল হোতা হিসেবে মো. সাইফুল ইসলামের নাম সামনে এসেছে। পেশাগত পরিচয় ‘মিডিয়া মালিক’ বা ‘সম্পাদক’ হলেও তার আসল পরিচয়—প্রতারক। রাজধানীর মতিঝিলের ১০৭, খান ম্যানশনের ৩য় তলায় বসে সাইফুল ও তার চক্র দেশজুড়ে বিকাশ অ্যাপসের মাধ্যমে প্রতারণা চালিয়ে আসছে।
নিজেকে কখনও চ্যানেল সিএনএন বাংলা বা চ্যানেল ২৬-এর চেয়ারম্যান, আবার কখনও দৈনিক বিকেল বার্তা পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাইফুল অনিবন্ধিত এসব মিডিয়ার ব্যানারে দেশজুড়ে প্রতিনিধি নিয়োগের নামে তৈরি করে প্রতারকদের বিশাল নেটওয়ার্ক। এই প্রতিনিধিরাই আসলে ছিল বিকাশ প্রতারণা সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য।
সাইফুলের চক্রের সবচেয়ে সক্রিয় শাখা ছিল সিলেটে। স্থানীয় সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—আব্দুল আলিম রানা, কামরুল হাসান জুলহাস এবং যুবলীগ নেত্রী লাকি আক্তার ওরফে লাকি আহমেদ। তারা ভয় দেখানো, মিথ্যা পরিচয় দেওয়া অথবা বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের বিকাশ অ্যাকাউন্টের গোপন পিন বের করে টাকা হাতিয়ে নিত।
এমনকি তারা নিজেদেরকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিকাশ এজেন্টদের ফোন করে জরুরি প্রয়োজনে টাকা পাঠাতে বলে বা ‘ধার’ নেওয়ার কথায় টাকা আদায় করত। বদলির ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
র্যাব, পুলিশ ও সিআইডি ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা–উপজেলা থেকে প্রতারণা চক্রের বহু সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৮টি মোবাইল ফোন ও ২৪টি সিমকার্ড।
তদন্তে উঠে এসেছে—
প্রতারকরা মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
বিভিন্ন জেলার বিকাশ এজেন্টদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করত।
ভুয়া নাম–ঠিকানায় নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করত।
নিজেদের বিকাশ হেড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পিন কোড বের করে নিত।
পিন পেলে স্মার্টফোনের বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে মুহূর্তে অ্যাকাউন্ট খালি করত।




















