বিনোদন

নতুন বছরে প্রথম সিরিজ ‘আঁতকা’

  প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:১৭:২০ প্রিন্ট সংস্করণ

বিদায়ী বছরের একদম শেষদিকে এক আড্ডায় বসেছিলেন আবুল হায়াত, রোজী সিদ্দিকী, সাবেরী আলম, মৌসুমি নাগ, আরশ খান, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সোহেল মণ্ডল ও ফারিহা রহমান। দেশের জনপ্রিয় এই নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের মধ্যে সূত্রধরের কাজ করছিলেন ইনফ্লুয়েন্সার-লেখক-কণ্ঠশিল্পী রাবা খান। বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াতের মতে সেটি ছিল ফ্যামিলি আড্ডা। কিন্তু প্রশ্ন হলো এরা সবাই ফ্যামিলি বা পরিবার কীভাবে? আসলে ‘আঁতকা’ নামের একটি সিরিজে সবাইকে দেখা যাবে এক পরিবারের অংশ হিসেবে। সেকারণেই শিল্পীদের কাছে সেটি হয়ে উঠেছিল ফ্যামিলি আড্ডা।

এটি জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির এ বছরের প্রথম অরিজিনাল সিরিজ। মুক্তি পাবে আগামী ১৪ জানুয়ারি রাত ১২টায়, অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি। দর্শকদের জন্য নতুন বছরের প্রথম কনটেন্ট হিসেবে পরিবারকে কেন্দ্র করে সাজানো গল্পকে বেছে নিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। পারিবারিক প্রেক্ষাপটের আশ্রয়ে নানান টুইস্ট রাখা হয়েছে সিরিজে। রাবা খানের গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি। এটি গল্পকার ও নির্মাতা হিসেবে তাদের প্রথম সিরিজ।

‘আঁতকা’ আসলে কী? রাবা ও নিধি বলেন, ‘আঁতকা একটা শব্দ, যার অর্থ আচমকা। এটা খুবই লোকাল একটা শব্দ, আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি।’

নামটা চূড়ান্ত করার গল্প বলতে গিয়ে রাবা বলেন, ‘সিরিজের নাম কী হবে, সেটা নিয়ে একদিন আমি আর নিধি ফোনে কথা বলছিলাম। ওই আলোচনার মধ্যেই কয়েকবার আঁতকা শব্দটা ব্যবহার করে নিধি। তখন আমাদের মনে হয় এটা নাম হতে পারে। আমরাও শব্দটা প্রায়ই ব্যবহার করি। নানা আলোচনা ও যুক্তির পর আমরা নামটা ঠিক করি।’

নিজের ব্যাখ্যা শেষ করে অন্যদের কাছে রাবা জানতে চান, আঁতকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? এক কথায় সবাই যা বললেন, তা এমন-

সাবেরী আলম: খুব চমৎকার অভিজ্ঞতা।

রোজী সিদ্দিকী: ফ্যামিলি ড্রামা।

আবুল হায়াত: ফ্যামিলি ফান।

সুনেরাহ: ফান।

কার চরিত্র কেমন?

মৌসুমি নাগ: রোজী সিদ্দিকী বলছেন তিনি নায়িকা।

আবুল হায়াত: আমি নায়ক আর আরশ ছোট নায়ক।

সুনেরাহ: আমার চরিত্রটা অনেক ঝাকানাকা।

সোহেল মণ্ডল: আমরটা বলা যাবে না!

এসব উত্তর দিতে দিতে হাসি আর একে-অপরের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠছিলেন আড্ডায় বসা শিল্পীরা। এরপর একে একে অনেক কথা, উঠে আসে আঁতকার শুটিংয়ের গল্প।

মজার ঘটনা বলতে গিয়ে সাবেরী আলম বলেন, ‘একটা সিনে তুষার খান মনে করেছেন আমি তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছি। কিন্তু আমি অভিনয় করছিলাম তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর চরিত্রে। দৃশ্যটা ছিল ইমোশনাল, কিন্তু ভুল করার কারণে খুব মজা হয়েছিল।’

সাবেরী আলমের সঙ্গে যোগ করেন আবুল হায়াত। তিনি বলেন, ‘নাটকে তো আসেল তুষার স্ত্রী পায় না। এখানে (আঁতকা) স্ত্রী পেয়ে কনফিউজড হয়ে গেছে।’

রোজী সিদ্দিকী বলেন, ‘অনেকদিন পর আমরা কিছু পুরনো মানুষ একসঙ্গে হতে পেরেছি। এত হাসাহাসি করেছি যে নির্মাতা বলতে বাধ্য হয়েছেন, আপনারা প্লিজ হাসি থামান, আমাকে সিনটা করতে দেন। ছোটদের সঙ্গেও মজা করেছি। ওরা (ছোটরা) বুঝতে পেরেছে, বড়রা কী পরিমাণ ফানি হতে পারে।’

নবীন-প্রবীণদের কার চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল? রাবার এমন প্রশ্নে আবুল হায়াত বলে ওঠেন, ‘অভিনয় করাটাই চ্যালেঞ্জিং। যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করাটাই কঠিন। আর নতুনদের সঙ্গে কাজ করাটা আরও কঠিন, কারণ ওরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো অভিনয় করে।’

আরশ খানের ভাষ্য, ‘আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল প্রথম দৃশ্যটা। যেখানে ছিলেন আবুল হায়াত। সবসময় তাকে টিভিতে দেখেছি, তিনি আমার কাছে “দ্য আবুল হায়াত”। সিনটা করব কীভাবে এটা ভেবে আগের রাতে জ্বর চলে এসেছিল।’

তার এ কথা শুনে আবুল হায়াতের মন্তব্য, ‘আগে বলবা না, আমার কাছে প্যারাসিটামল তো ছিলই!’

সোহেল মণ্ডলের কাছে সবার সঙ্গে অভিনয় করাটা ছিল আনন্দের। ফারিহা রহমান বলেন, ‘আমার একটা ইমোশনাল সিন চলছিল। কান্নার সিন মূলত। আমি কাঁদছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেটা ভয়ে, এত গুণী শিল্পীদের সামনে আমি জাস্ট ভয়ে কেঁদে দিয়েছি। সবাই হয়তো মনে করেছে যে সিনের প্রয়োজনেই কাঁদছি।’

কান্নার কথা শুনে অন্য একটা গল্প মনে পড়ে আবুল হায়াতের। তিনি বললেন, ‘অনেকদিন আগের কথা। মঞ্চে এক পরিচালক কান্নার নানান রকম টেকনিক শেখাচ্ছিলেন। একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, স্যার আপনার যখন কান্নার প্রয়োজন হয় তখন আপনি কীভাবে কাঁদেন? আমি বললাম, আমার কিছু করতে হয় না, আমার স্ত্রীর কথা মনে করলেই কান্না চলে আসে! আর হাসেন কীভাবে? ওই, স্ত্রীর কথা মনে করে।’

‘আঁতকা’র শুটিং করতে গিয়ে অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালের ব্যাপারে অভিনেতা আরশ খানের নতুন একটা উপলব্ধি হয়েছে। সেটা জানিয়ে আরশ খান বলেন, ‘সুনেরাহর সঙ্গে তো আমার প্রায়ই কাজ হয়। শান্ত, ভালোবাসার মানুষ-এমন চরিত্রেই সাধারণত কাজ হয় আমাদের। কিন্তু এই শুটিংয়ে গিয়ে বুঝলাম সে খুব দুষ্টু বা এ রকম চরিত্রে অভিনয় করতে পারে, সেটা খুব মজা লেগেছে।’

আরশকে নিয়ে সুনেরাহর মন্তব্য এমন, ‘আরশ সেটে গিয়ে সবকিছু ভুলে শুধু অভিনয়টা করতে পারে, এটা জানতাম না। কারণ সাধারণত সে সব কিছুতে নাক গলায়।’

২০২৩ সালে আঁতকা’র গল্প মাথায় আসে নিধি ও রাবার। গল্পটি ভাবতে ভাবতেই তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, ফ্যামিলি ড্রামা থেকে কিছুটা হরর কমেডিও হবে। ২০২৪’র শেষদিকে তারা সিন-সিনপসিসগুলো লেখেন। বাকি কাজগুলো শেষ হয় চরকির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর, জানান রাবা-নিধি।

রাবা বলেন, ‘আমরা ফ্যামিলি ড্রামা করতে চেয়েছিলাম এবং এটা এখনও সেটাই আছে। তবে এর সঙ্গে টুইস্ট হিসেবে যুক্ত হয়েছে অনেক ডালপালা।’

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ‘নতুন বছরে চরকির প্রথম কনটেন্টে সবাই যেন পারিবারিক একটা গল্প পায়, একটু ফান করতে পারে, একটু হরর ফিল পায়- সেই ভাবনা থেকেই দর্শকদের জন্য আঁতকা। আশা করছি দর্শকরা গল্পটার সঙ্গে খুব সহজে কানেক্ট করতে পারবেন।’

আরাফাত মহসীন নিধি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল মাল্টি কাস্টিং নিয়ে কাজ করার। আমি আমার ছোটবেলায় যাদের দেখেছি, তাদের কেন সিনেমা বা ওটিটিতে পাচ্ছি না, সেটা আমার একটা চিন্তা ছিল। তাই যখন ফ্যামিলি গল্প নিয়ে কাজ শুরু করলাম, আমরা চেয়েছিলাম এ রকম একটা কাস্ট নিয়ে কাজ করার। যাদের চেয়েছি, তাদেরকে পেয়েছি বলতে পারেন এবং মজার বিষয় হলো তাদের সঙ্গে আমার আগের কোনো যোগাযোগ ছিল না। আমি লাকি যে সবাই আমার কাজে “হ্যাঁ” বলেছেন।’

চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’য় আরও রয়েছেন মুকুল সিরাজ, সুমন আনোয়ার, তন্ময় পারভেজ, দুর্জয়, আলিফ খান, ফারদীন খান, ফাহাদ রিয়াজ খান, ডালিয়া ও আবু নায়েম।

আরও খবর

Sponsered content