সারাদেশ

বিএনপি নেতা খুন, অভিযোগ ‘সন্ত্রাসী’ পিচ্চি কাউছারের বিরুদ্ধে

  লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ১৬ নভেম্বর ২০২৫ , ৩:৩৯:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আবুল কালাম জহিরকে (৫০) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ‘সন্ত্রাসী’ কাউছার মানিক বাদল প্রকাশ ওরফে পিচ্চি কাউছারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।

এদিকে শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম লতিফপুর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটলেও রোববার (১৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মামলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে খবর পেয়ে রাতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কোনো হত্যাকাণ্ডই কোনো সমাধান না। এই চন্দ্রগঞ্জে প্রচুর রক্ত রাস্তাঘাটে বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে। এমন কোনো ওয়ার্ড নেই, যেখানে গত ১৭ বছর গুম খুন না হয়েছে, হত্যাকাণ্ড না হয়েছে। আওয়ামী লীগ নাই, আওয়ামী লীগ পালিয়েছে। তাদের ষড়যন্ত্র আছে। মাদকসহ যারা বিভিন্ন ধরণের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। কে বা কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে প্রকৃত জিনিস এই মুহুর্তে বলা মুশকিল। যেই হোক রাজনীতি করুক বা না করুক। এদের কোনো পরিচয় নেই, এদের পরিচয় এরা সন্ত্রাসী। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই, সঠিক বিচার দাবি করি।’

নিহত জহির চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের মোস্তফার দোকান এলাকায় সড়কে ওপর জহিরকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দূর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একসময় জহির মাদক ব্যবসা ও মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। সেখান থেকে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে তার প্রতিপক্ষ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। মরদেহের পাশে গুলির খোসাও দেখা গেছে। নিহত জহিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকের ৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জহিরের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্ত্রাসী পিচ্চি কাউছারের সঙ্গে জহিরের দ্বন্দ্ব ছিল। কিছুদিন আগেও বাগবিতণ্ডা হয়েছে তাদের। কাউছার সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কাউছারই এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।’

এ বিষয়ে চেষ্টা করেও ছোট কাউছারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের পরিবার মামলা করবেন। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। মাদক ব্যবসা ও অর্ন্তকোন্দলের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ধারনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী পিচ্চি কাউসার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কাউছারের বিরুদ্ধেও হত্যা ও অস্ত্র আইনে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।’

আরও খবর

Sponsered content