নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ , ৯:৫৭:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর মহাখালীতে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এক সন্ত্রাসীর গুলিবর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় বৈশাখী টেলিভিশনের পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন মোটরসাইকেল আরোহী হেলমেট পরিহিত ব্যক্তি তিন থেকে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈশাখী টেলিভিশনের কিছু পুরাতন মালামাল সম্প্রতি দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। মালামালগুলো যে প্রতিষ্ঠান ক্রয় করে, তাদের কাছ থেকে কয়েকটি পক্ষ চাঁদা দাবি করছিল বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় ট্রাকে মালামাল লোড করা হচ্ছিল। ঠিক তখনই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে বিএনপি ঘরানার বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু দলবল নিয়ে উপস্থিত হন এবং মালামাল লোডিংয়ের সময় পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তার নাম আব্দুর রহমান মাসুম ওরফে মোল্লা মাসুম। তিনি মহাখালী ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধী হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোল্লা মাসুমের বিরুদ্ধে বনানী, গুলশান, বাড্ডা ও তেজগাঁও থানায় চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মহাখালী ও পরে টঙ্গী এলাকায় বসবাস করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মাসুম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ফের এলাকায় সক্রিয় হয়েছে। তিনি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কড়াইল বস্তির একটি অংশসহ বনানী থানার কিছু এলাকায় তার প্রভাব রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি বিটিসিএল কলোনির একটি পরিত্যক্ত ভবন দখল করে সেখানে গোপন আস্তানা গড়ে তোলে বলে অভিযোগ ওঠে। গত সপ্তাহে ওই আস্তানায় যৌথবাহিনী অভিযান চালায়, তবে মাসুম পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে ওয়্যারলেস গেইটে জয় প্রসাধনীর স্বত্ত্বাধিকারী স্বপন রায়ের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে মাসুমের বিরুদ্ধে। এছাড়া গত মাসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজার মো. লাবুকে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল সারোয়ার বলেন, “গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় একটি সন্ত্রাসী চক্র আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে রেখেছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।














