মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৮:৩৫:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রতারণার অভিযোগে নিশান পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সোসাইটি নামে একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক মঈন উদ্দিন বেলাল ও কর্মকর্তা গোবিন্দ কৈরিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার তেলিয়াপাড়ায় সংগঠনের অফিস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তেলিয়াপাড়ার স্বপ্না রানী রায়ের দায়ের করা প্রতারণার মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে মাধবপুর থানার এসআই নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে ব্র্যাক থেকে চাকরি ছেড়ে মঈন উদ্দিন বেলাল শ্বশুরের জায়গায় “নিশান পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সোসাইটি” নামে অফিস খোলেন। কর্মীরা চা বাগান ও আশপাশের এলাকায় প্রচার চালাতেন যে, এখানে টাকা জমা রাখলে প্রতি লাখে মাসে ২ হাজার টাকা মুনাফা দেওয়া হবে।
প্রলুব্ধ হয়ে হবিগঞ্জের চা শ্রমিকসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় চার হাজার মানুষ তার কাছে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা জমা করেন। শুরুতে কয়েক বছর মুনাফা নিয়মিত দেওয়া হলেও গত তিন বছর ধরে আসল টাকা বা মুনাফা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। ফলে হাজার হাজার আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগীরা জানান, অনেকেই গরু-ছাগল বিক্রি বা জমি বন্ধক রেখে টাকা জমা করেছিলেন। একপর্যায়ে পরিচালকদের কয়েকজন গোপনে পালিয়ে যায়। নির্বাহী পরিচালক বেলাল ও তার স্ত্রীকে গ্রাহকরা নজরবন্দি করে রাখলেও মাসখানেক আগে তার স্ত্রীও পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী গোয়াছনগরের সাইফুল বলেন, “লাভের আশায় জমি বিক্রি করে টাকা জমা করেছিলাম, কিন্তু সব টাকা মেরে তারা পালিয়েছে।”
সুরমার মানিক মিয়া জানান, “আমার বাবা নিশানে টাকা জমা রেখেছিলেন, ফেরত না পেয়ে কষ্টে মারা গেছেন।”
পরমানন্দপুরের রফিক বলেন, “কৃষিকাজের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখেছিলাম, অথচ তারা সেই টাকা দিয়ে বিলাসী জীবন যাপন করেছে।”
গ্রাহকদের দাবি, সরকারের হস্তক্ষেপে আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত দিতে হবে।
মাধবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, “প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মঈন উদ্দিন বেলাল ও গোবিন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”




















