সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৭:৩৫:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় রঞ্জিত চন্দ্র কর (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত রঞ্জিত চন্দ্র কর উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের ভাটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটাপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার আহত রঞ্জিত চন্দ্র করের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ভাটাপাড়া গ্রামের সরজিত চন্দ্র কর (৩২), প্রদীপ চন্দ্র কর (২৮), সঞ্জিত চন্দ্র কর (৪০), সুশীল চন্দ্র কর (৬৫)সহ প্রতিপক্ষের ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রঞ্জিত চন্দ্র করের সঙ্গে একই গ্রামের সুশীল চন্দ্র কর ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
শুক্রবার সকালে রঞ্জিত চন্দ্র কর উকিল মুন্সী বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। বাড়ির অদূরে একটি নির্মাণাধীন সেতুর কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সরজিত চন্দ্র করসহ অন্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে তার দুই পা ও শরীরে গুরুতর জখম করা হয়। রঞ্জিতের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত রঞ্জিত চন্দ্র করকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
আহত রঞ্জিত চন্দ্র করের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর অভিযোগ করে বলেন, “ভাটাপাড়া গ্রামটি ইউনিয়নের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাম হিসেবে পরিচিত। আমরা সাত ভাইয়ের মধ্যে পাঁচ ভাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অন্যদিকে আমার দুই ভাইসহ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমরা নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছি। সরকার পরিবর্তন হলেও আমাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




















