প্রতিনিধি ১২ জুলাই ২০২৫ , ১১:০৫:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ
মো: সাকিব চৌধুরী: রংপুরের বাজারগুলোতে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়ে গেছে। চালের এমন উর্ধমুখি বাজারদরে স্বল্প আয়ের ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ক্রেতা সাধারণ বিপাকে পড়েছেন।
শনিবার (১২ জুলাই) রংপুর সিটি বাজার, মাহিগঞ্জ চালের আড়তসহ বিভিন্ন বাজারে খবর নিয়ে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে চালের বাজারদর হঠাৎ করে মোটাজাতের স্বর্না কেজিতে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা, ২৮ জাতের চাল ৬৬ থেকে ৭২টাকা, ২৯ জাতের চাল ৬২ থেকে ৬৮ টাকা, মিনিকেট নামে এক প্রকার প্রসেসকৃত মোটা চাল চিকন চালে রুপান্তর করে বিক্রি হচ্ছে তা ৭৮ থেকে বেড়ে ৮২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা সম্প্রতিকালে চালের সর্বোচ্চ বাজার দর বলে চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন।
রংপুর সিটি বাজারের চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদল সিণ্ডিকেট চক্র চালের বাজার নিয়ন্ত্রন করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রংপুর সিটি বাজারের চাল ব্যবসায়ী মতিন মিয়া জানান, তিনি গত দুই সপ্তাহে চাল যে দামে বিক্রি করেছেন সে সব চাল এখন গড়ে ৫ থেকে ৬ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছেন। যা গড়ে ২৫ কেজি ওজনের বস্তায় গড়ে দেড়শত টাকা উর্ধদরে বিক্রি হচ্ছে।
রংপুরের ঐতিহ্য শহর মাহিগঞ্জ চালের আড়তের ব্যবসায়ী সামসুল আলম বাবু বলেন, চালের বাজারদর একটি সিণ্ডিকেট চক্র নিয়ন্ত্রন করার কারনে চালের বাজারদর ক্রমাগত উর্ধমুখি হচ্ছে। সরকারের খাদ্যবিভাগের নজরদারীর অভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
মাহিগঞ্জ এলাকার অটো রাইচ মিলের মালিক লোকমান হোসেন মোল্লা চালের বাজারদর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, অনেক ব্যবসায়ী চালের মজুত গড়ে তুলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় চালের বাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনি নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে চালের বাজারদর আরও বেড়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নগরীর কামালকাছনার বাসিন্দা রিকশা চালক ফরিদ বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তাতে চালের বাজার বেড়ে যাওয়ায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
একই রকম কথা বলেছেন, বেলাল আলী দিনমজুরী করে যে আয় হয় তা থেকে বাড়ির ৫ সদস্যের দুই বেলা চালের জন্য টাকা উঠে না। এখন সবকিছুই বাড়তি ব্যয় বেড়ে গেছে। চালের বাজারদও বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের চাহিদামত বাজার খরচ করা কষ্টকর হয়েছে। কেজি প্রতি চালের দাম গড়ে ৬ টাকা বেড়ে যাওয়ায়।
তারা আশংকা প্রকাশ করে বলেন, যদি চালের দাম আরও বেড়ে যায় তা হলে তারা আরও সংকটে পড়বেন। তাই তারা মনে করেন চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে সরকারের উদ্যোগ নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।




















