মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ , ১১:২৪:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘চায়না দুয়ারি’ জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের নদ–নদী, খাল–বিল এবং জলজ প্রাণের টিকে থাকা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জেলেরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সবুজ সংহতি ও উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বারসিকের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নিকট পাঁচ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে জেলেরা ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার সরঞ্জাম—খোরা জাল, পলো, চাঁই, খলই, বিনকি হাতে নিয়ে অংশ নেন। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল, “চায়না দুয়ারি জাল বন্ধ করো, দেশীয় মাছ রক্ষা করো।”
কর্মসূচিতে বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম বরেন্দ্র অঞ্চলের জেলেদের পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন,
“প্রায় সব নদ–নদী ও খাল–বিলে চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরা হচ্ছে। ছোট ফাঁসের কারণে পোনা মাছও মারা যাচ্ছে। এতে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে।”
তিনি আরও বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা মানা হচ্ছে না, যার ফলে জলজ উদ্ভিদ, পাখি, ব্যাঙ, কচ্ছপসহ পুরো বাস্তুসংস্থান হুমকির মুখে পড়ছে।
গোকুল-মথুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“আমাদের বিলকুমারী বিলে আগে বহু জাতের মাছ ছিল, এখন আর কিছুই নেই। চায়না জালের কারণে মৌসুমেও মাছ ধরা যায় না।”
বিলপারের আরেক জেলে আফাজ উদ্দিন কবিরাজ বিলের হারিয়ে যাওয়া দেশীয় মাছের নাম উল্লেখ করে অবিলম্বে চায়না দুয়ারি জাল বন্ধের আহ্বান জানান।
সবুজ সংহতি রাজশাহীর আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন,“আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। অবিলম্বে চায়না দুয়ারি জালের আমদানি, তৈরি ও বিক্রি বন্ধ করতে হবে। এর কারখানাগুলোকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।”
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন পবা উপজেলার নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায়ের সাধারণ সম্পাদক আবু সামা, জেলে রঘুনাথ হালদার, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি উপেন রবিদাস, জুলাই ৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক।





