সারাদেশ

সিলেট রেলস্টেশন ও দক্ষিণ সুরমায় ফের বাড়ছে অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য

  সিলেট প্রতিনিধি ২৮ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:২৭:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

 

সিলেটের রেলওয়ে স্টেশন ও দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ফের ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে অপরাধ প্রবণতা। সরকার পরিবর্তনের পর একসময় মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত এই এলাকাগুলোতে কিছুদিন অপরাধচক্রের তৎপরতা কমলেও সম্প্রতি আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব গোষ্ঠী। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম রানা এবং মলম পার্টির হোতা কামরুল হাসান জুলহাস নেতৃত্ব দিচ্ছে এই অপরাধচক্রকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন কুলঘেঁষা বাইপাস সড়কের মুখে এক যাত্রীর কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে সাত হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল আলীম মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার দীঘলবাক গ্রামের মৃত কুনু মিয়ার ছেলে। তিনি জানান, ভোলাগঞ্জ থেকে ট্রেনে সিলেট এসে জুড়ির উদ্দেশে স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন, সেই সময় পাঁচজন ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর টাকা ছিনিয়ে নেয়।

স্থায়ী বাসিন্দাদের ভাষায়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশে অপরাধী চক্রগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন হোটেল ও আবাসিক ভবনে চলছে মাদকসেবন, অজ্ঞান পার্টি এবং অনৈতিক কার্যকলাপ, যার পেছনে জড়িত স্থানীয় পর্যায়ের কিছু রাজনৈতিক নেতা। যদিও মাঝে মধ্যে পুলিশ কিছুটা “দেখানো অভিযান” চালালেও অপরাধীদের কার্যক্রম থামছে না।

হুমায়ুন রশিদ চত্বর, পারাইরচক, লালমাটি, ফেঞ্চুগঞ্জ রোড ও কদমতলী এলাকায় রাত-বিরাত ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির কার্যক্রম তীব্র আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ সুরমায় রাত ১২টার পর কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া উপস্থিতি এখন নিয়মিত দৃশ্য। আবাসিক এলাকার ভেতরে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এদিকে কদমতলীসহ বিভিন্ন স্থানে গভীর রাত পর্যন্ত বাউল আসরের নামে চলে বেহায়াপনা ও উচ্চস্বরে গান-বাজনা। স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা সামাজিক মাধ্যমে এসব অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে, সিলেট জেলা প্রশাসক উত্তর সুরমা এলাকায় শৃঙ্খলা আনতে উদ্যোগ নেওয়ার পর এখন বিপুল সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ হকার দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ভিড় জমাচ্ছে। এতে সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। বিশেষ করে কদমতলী, ক্বীণব্রিজ, হুমায়ুন রশিদ চত্বর ও বাবনা এলাকায় যানজটে পাঞ্জাবী। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সরব পদক্ষেপ না নিলে দক্ষিণ সুরমা আবারও অপরাধ নিয়ন্ত্রণহীন এক অরাজক এলাকায় পরিণত হতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content