কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | ৫ মার্চ ২০২৬ , ১১:১৮:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা-র ভিতরবন্দ ইউনিয়ন-এর জামতলাপাড় থেকে কচুয়ারপাড়–মাদাইখাল সংযোগ সড়কের নির্মাণাধীন ডুবুরীরখাল ব্রীজটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় গ্রামবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ভাঙা ব্রীজের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি নতুন ও টেকসই ব্রীজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়-এর অর্থায়নে একই স্থানে পর্যায়ক্রমে দুটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছিল। স্বল্প বাজেট ও নিম্নমানের কাজের কারণে নির্মাণের ২–৩ বছরের মধ্যেই বন্যার সময় তীব্র স্রোতে ব্রীজ দুটি ধসে যায়। সর্বশেষ ২০০৬ সালে নির্মিত ব্রীজটি ২০০৮ সালের বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর আর পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বন্যা ও বর্ষা মৌসুমে দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ জীবনঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাসেম আলী বলেন, “এই ব্রীজ দিয়ে ঠিকমতো হাঁটাও যায় না। অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে হলে কয়েক কিলোমিটার ভাঙা রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পাটাতনের ওপর দিয়ে অটো চলতে পারে না, ফলে কাঁচামাল, সার, ধান-চাল পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।”
কৃষক রমেশ চন্দ্র জানান, “বন্যার সময় কাঠের পাটাতনটি ভয়ংকর হয়ে ওঠে—যে কোনো সময় উল্টে যেতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী এই পাটাতনের সেতু পাড় হয়ে কষ্ট করে স্কুলে যায়। এখানে একটি ব্রীজ হলে আমাদের কষ্ট অনেক কমবে।”
বিষয়টি নিয়ে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন, “২০০৬ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। স্বল্প বাজেট ও নিম্নমানের কাজের কারণে বন্যায় তা ভেঙে পড়ে। এখানে একটি টেকসই গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, ধ্বসে পড়া ডুবুরীরখাল ব্রীজটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হলে জামতলা ও কচুয়ারপাড় এলাকার কয়েক হাজার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব পাবে।





















