তথ্যপ্রযুক্তি

ঝিকরগাছায় অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো ও পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ

  এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার ১৬ অক্টোবর ২০২৫ , ৮:৩৯:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ


যশোরের ঝিকরগাছায় সরকারি জলমহাল ইজারা ও ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে শিক্ষকের পরিচয় ব্যবহার, প্রভাব খাটানো এবং মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম মো. আনিছুর রহমান মিলন। তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের মোকামতলা হাইস্কুলের একজন অফিস সহায়ক এবং উত্তর রাজাপুর গ্রামের ইছাহাক আলীর ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী বলেও পরিচিত।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৩ অক্টোবর) ঝিকরগাছা থানায় আনিছুর রহমান সাংবাদিকসহ দুইজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, উত্তর রাজাপুর গ্রামে অবস্থিত একটি বাওর (জলাশয়) সরকারি লিজ নিয়ে তিনি ও গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার মাছ চাষ করছেন

তবে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, আনিছুর রহমান স্কুলের খাতা-খতিয়ানে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত হলেও তিনি নিজেকে “শিক্ষক” পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যে বাওরটি নিয়ে বিরোধ চলছে, সেটি নিয়ে বিজ্ঞ আদালত থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে এবং মামলাটি বিচারাধীন।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে—দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা, জলমহালের বিষয়ে ভূয়া তথ্য প্রচার, উপজেলা প্রশাসনকে বিতর্কে জড়ানো এবং সংবাদকর্মীদের হুমকি প্রদানসহ নানা কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত। এ নিয়ে পূর্বে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে একটি নাটকীয় সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন তিনি ও তার সহযোগীরা।

এ বিষয়ে আনিছুর রহমান মিলন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমি স্কুলের অফিস সহায়ক। অভিযোগে ‘শিক্ষক’ লেখা হয়তো কম্পিউটারে ভুল হয়েছে। আর বাওরের লিজ গত বছর আমাদের কাছ থেকে খাস কালেকশন করা হয়েছিল। এবার মামলার কারণে আগের মতো হয়নি।”

মোকামতলা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আনারুল ইসলাম বলেন, “খাতা-খতিয়ানে তিনি অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। অফিস সহায়ক হয়েও শিক্ষক পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন কি না—সে বিষয়ে আমার মন্তব্য নেই।”

ঝিকরগাছা থানার ওসি গাজী নূর মোহাম্মদ বলেন, “এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, “বিচারাধীন জমি লিজ বা বন্দোবস্তের সুযোগ নেই। আদালতের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ভুপালী সরকার বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হবে না।”

আরও খবর

Sponsered content