গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ , ৯:৩৯:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান কুঠিপাড়া এলাকায় স্বামীকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে নির্যাতন, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় স্ত্রী একটি এজাহার দাখিল করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।
এরপর ১৮ অক্টোবর পাইকান কুঠিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদেরকে স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
মামলার বাদী মোছা: স্মৃতি খাতুনের জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর ২০২৩ সালে সহকারী কাজী সোলায়মান হোসেনের বাড়িতে রেজিস্ট্রার বিবাহের জন্য গেলে মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক ৫ লাখ ১০৫ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি স্মৃতির বয়স ১৮ পূর্ণ হলে সে রেজিস্ট্রি কাবিনের জন্য চাপ দিলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না পাওয়ায় বিলম্ব ঘটে।
এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধ বাড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে ১১ অক্টোবর এলাকায় সালিস বৈঠক হলেও নিষ্পত্তি না হওয়ায় থানা পুলিশ স্মৃতিকে কাদেরের বাড়ি থেকে এনে অভিভাবকের জিম্মায় দেয়।
তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আব্দুল কাদের নাকি বিয়ে ছাড়াই স্মৃতির সঙ্গে দুই বছর ধরে অবৈধ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। কিন্তু নির্বাচন অফিস থেকে সংগৃহীত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী (নম্বর: ৪২২৯৫১০২৮৬) স্মৃতির স্বামী হিসেবে উল্লেখ আছে ‘মো. আব্দুল কাদের’। একইভাবে সরকারি শিক্ষক হিসেবে আব্দুল কাদেরের ইএফটি তথ্যেও দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম হিসেবে মোছা: স্মৃতি খাতুনের নাম ও উক্ত জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর মিলে গেছে।
অন্যদিকে কাদেরের প্রথম স্ত্রী মোছা: রীনা আক্তার ফাতেমা জানান, “আমার স্বামী স্মৃতিকে দুই বছর আগে বিয়ে করেছে। তাকে বাবার বাড়িতে থাকার জন্য আলাদা ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে এবং দুই লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র কিনে দিয়েছে।”
এ বিষয়ে সহকারী কাজী সোলায়মান বলেন, “এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
আলমবিদিতর ইউনিয়নের কাজী আব্দুল ওহাব বলেন, “সহকারী কাজীর কাছে দেওয়া বিবাহ রেজিস্ট্রারের বইয়ে আব্দুল কাদের ও স্মৃতির বিয়ের কোনো নথি পাইনি।”
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি তদন্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গঙ্গাচড়া সার্কেল) শরীফ মো. ফারুকুজ্জামান বলেন, “মামলা দায়ের হয়েছে, তবে তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে।”
সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে— যখন বিয়ের স্বীকৃতি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও সরকারি তথ্যাবলি অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নিশ্চিত, তখন ‘অপহরণ’ ও ‘ধর্ষণ’-এর অভিযোগ কতটা যৌক্তিক?




















